অভিনয় জীবনের ২৮ বছরে  শাহরুখ খান

বলিউডে আউটসাইডার হিসেবে ঢুকেছিলেন তিনি। ছিলনা কোনো তারকা পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তাকেই আজ সবাই চেনে এক নামে। তিনি আর কেউ নন। বলিউডের বাদশা, কিং অব রোমান্স শাহরুখ খান।

১৯৯২ সালে দিওয়ানা ছবি দিয়েই বাজিমাত করেছিলেন তিনি। অর্জন করেছিলেন সেরা নবাগত অভিনেতার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই অভিনেতাকে। সম্প্রতি বলিউডে ২৮ বছর পূর্ণ করেছেন এ সুপারস্টার। আর ক্যারিয়ারে সাফল্যের জন্য ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলিউড বাদশাহ।

স্মৃতিচারণ করে সম্প্রতি টুইটারে নিজের একটি সাদা কালো ছবি যুক্ত করে এর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘কীভাবে প্রেম ধীরে ধীরে আমার প্রয়োজনে পরিণত হল এবং সেখান থেকে হঠাৎ করেই পেশাটাই বদলে গেল, বুঝতেই পারলাম না। ২৮টা বছর… স্টিল কাউন্টিং। ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার স্ত্রী গৌরি খানকেও।

তাজ মুহম্মদ খান আর লতিফ ফাতিমার পরিবারে ১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর জন্ম হয় শাহরুখের। জন্মের সময় কোনো এক নার্স নাকি বলেছিল সে বড় হয়ে অনেক বিখ্যাত হবে। সেই ব্যক্তিটিই আজ শাহরুখ খান।

১৯৮৯ সালে ‘ফৌজি’ নামক ধারাবাহিকেই তার অভিনয় জীবনের শুরু হয়। এই নাটকে তিনি ‘অভিমান্যু রায়’ নামের এক আর্মি ক্যাডেট চরিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনয় এতোটাই নজর কাড়া হয় যে, অনেক সমালোচক তার অভিনয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে কিংবদন্তি অভিনেতা দীলিপ কুমারের সাথে তুলনা করেন।

১৯৯১ সালে মা মারা গেলে শাহরুখ খান তার সিদ্ধান্ত বদলে চলচ্চিত্রে কাজ করবেন বলে দিল্লী থেকে মুম্বাই চলে আসেন। ১৯৯৩ সালে শাহরুখ খান উপহার দেন ‘ডর’ এবং ‘বাজিগর’ এর মতো বক্স অফিস হিট ছবি। একই সঙ্গে ব্যাপক প্রশংসিত হয় দুটি চলচ্চিত্রে।

‘কাভি হা কাভি না’ ছবিটিতে প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের রোমান্টিকতার পরিচয় দেন। এরপর ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় আদিত্য চোপড়া পরিচালিত ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের সেরা ছবিগুলোর একটি, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’। মুক্তি পাবার সাথে সাথেই ছবিটি বক্স অফিস জয় করে। এই ছবিটিই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

ক্যারিয়ারে খুব একটা উত্থান পতনের দেখা পাননি তিনি। ‘অশোকা’, ‘বাদশাহ’, ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’র মতো ছবিগুলো যখন বক্স অফিসে ফ্লপ হচ্ছিল, তখন এদের মাঝেই তিনি উপহার দিচ্ছিলেন ‘কুচ কুচ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘মোহাব্বাতে’, ‘কাল হো না হো’ এর মতো বক্স অফিস কাঁপানো ছবি।

২০০১ সালে তার অভিনীত এবং সঞ্জয় লীলা বানসালী পরিচালিত ছবি ‘দেবদাস’ ছিলো সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি। ছবিটি দশটি ফিল্মফেয়ার জেতে এবং শাহরুখকে তার অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ারসহ একাধিক পুরস্কার এনে দেয়।

দীর্ঘ সময় যাবত বলিউডে রাজত্ব করলেও গেল কয়েক বছর যাবত তেমন দাপট দেখা যায়নি শাহরুখের। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ‘জিরো’ সিনেমার মধ্যদিয়ে পর্দায় আসলেও সিনেমাটি তেমন ব্যবসা সফল হতে পারেনি।

নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি