অস্ত্র উৎপাদনে নয়, শান্তির কাজে ব্যবহৃত হবে পারমানবিক শক্তি

মমানীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজ থেকে পারমানবিক শক্তির একটি অংশ হলো বাংলাদেশ। অস্ত্র উৎপাদনে নয়, শান্তির কাজে ব্যবহার করা হবে পারমানবিক শক্তি।

আজ, পাবনার রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র স্থাপন কাজের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন তিনি।

সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের আগে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে রূপপুর প্রকল্পের বাংলাদেশি ও রাশিয়ান কর্মকর্তারা।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে বসানো হলো এ চুল্লিপাত্র। এর মাধ্যমে দেশে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

এসময় রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ বলেন, ‘রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করাটাই রোসাটমের অগ্রাধিকারে রয়েছে।’

এর আগে, বিজ্ঞানমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, এই ঘটনা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর ফলে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যাবে এবং এই ইউনিটের রিঅ্যাক্টর ভবনের ভেতরের কাজ প্রায় শেষ হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং একই পরিমাণ বিদ্যুৎ দ্বিতীয় ইউনিট থেকে পাওয়া যাবে ২০২৪ সালে। রূপপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন। এটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশই আসছে রাশিয়া সরকারের ঋণ হিসেবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তথ্য মতে, বর্তমানে এখানে প্রায় ২১ হাজার মানুষ কাজ করছে। এবছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ২২ হাজার। এরপর যখন কাজের পরিধি বাড়বে তখন প্রায় ৭০ হাজারের বেশি মানুষ এখানে কাজে যুক্ত হবেন।

You might also like