আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের পাশে থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

৭৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি হল জনগণের কল্যাণ করা। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০-২০২১ সালে মুজিববর্ষ এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করব। ২১তম জাতীয় সম্মেলনে এই আমাদের অঙ্গীকার।’

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলন আগামীকাল শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) এতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী শুরু হবে। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ পুনরায় আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিটি ওয়াদা আমরা বাস্তবায়ন করব। সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে এতসব অর্জন সম্ভব হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার সন্ত্রাস-জঙ্গি, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা সুখীসমৃদ্ধ ও শান্তিপ্রিয় দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি, আমরা এগিয়ে যাবই। কোন অপশক্তি দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নে ১১ বছরে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। দেশ এখন অদম্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’।

আমরা বিশ্বে এখন উন্নয়ন বিস্ময়। এ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.১৩ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার এখন ২১ শতাংশ ও মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার। দুই কোটির বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৫ কোটির বেশি মানুষ মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হচ্ছে। সাক্ষরতার হার ৭৩.৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদ ও নির্যাতিত মা-বোন, ১৫ আগস্টের শহিদ, আগস্ট গ্রেনেড হামলার শহিদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যে সকল নেতাকর্মী অক্লান্ত পরিশ্রম ও শত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ সংগঠনকে শক্তিশালী করে গণমানুষের সুবৃহৎ সংগঠনে পরিণত করেছেন তাদেরকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

বাণীতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সংগ্রামী জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে অফুরান শুভেচ্ছা জানান।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি

You might also like