আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান গ্রুপের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর বাড্ডা ও বান্দরবান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার (২৬ ডিসেম্বর) অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজি চক্রের সাতজনকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলবার, ১৩টি গুলি, ৬ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১২ টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার, বিপিএম (বার)।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ১৯ নভেম্বর ২০২১ তারিখ পূর্ব বাড্ডা আলিফ নগর এলাকার জেনারেটর ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম খান ওরফে টুটুলকে সন্ধ্যা ৬:৫১ টায় অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তি ফোন করে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা সঠিক সময় না দিলে সন্তানসহ পরিবারের উপরে হামলা করা হবে বলে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে ২১ নভেম্বর ২০২১ তারিখে বিকাল ৩ টায় জেনারেটর ব্যবসায়ী টুটুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন ব্যক্তি প্রবেশ করে চাঁদার টাকা দাবি করে এবং কোমর থেকে পিস্তল বের করে গুলি করে চলে যায়। পুনরায় ফোন করে দাবিকৃত চাঁদার ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। এসংক্রান্তে বাড্ডা থানায় মামলা রুজু হয়। মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ।

তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর ২০২১) রাজধানীর রামপুরা এলাকা হতে সন্ত্রাসী মোঃ নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) ধারাবাহিক অভিযানে রাজধানীর বাড্ডা ও বান্দরবান জেলা হতে কাওছার, জীবন, নিরু, সোহান, আসলাম ও মহিনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা গুলশান জোনাল টিম। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত হতে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩ রাউন্ড গুলি এবং ৬০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, দুবাইয়ে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও তার ভাই শামিম এবং কাশিমপুর কারাগারে থাকা ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী মামুনের ক্যাডার ইমন, জীবন এবং নিরুর টাকার প্রয়োজন হলে তারা এলাকার বড় ভাই মোঃ মহিনউদ্দিন জালালের কাছে যায়। তাদেরকে একটি ‘কাজ’ অর্থাৎ ‘টার্গেট’ দেয়ার জন্য বলে। পরবর্তীতে মোঃ মহিনউদ্দিন জেনারেটর ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের খোঁজ দেয়। নীরু, জীবন, ইমন কাজটি করার জন্য বাসের হেলপার নাসিরকে ঠিক করে। কিভাবে গুলি করতে হবে তা নাসিরকে ক্যাডার জীবন শিখিয়ে দেয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা দুবাইপ্রবাসী চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের ক্যাডার বলে স্বীকার করে। তথ্য প্রযুক্তির উপাত্ত বিশ্লেষণে দুবাই প্রবাসী চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সাথে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় মর্মে তিনি জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হচ্ছেন মো. নাসির, ওমর খৈয়াম, জীবন হোসেন, ফারহান মাসুদ, নাঈম, কাওছার আহমেদ ইমন ও মো. আসলাম। তাঁদের মধ্যে আসলাম অস্ত্র মামলায় ৯ বছর কারাগারে বন্দী ছিলেন। অন্যদের নামে অস্ত্র ও মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।

দক্ষিণ বাড্ডায় ২০০৬ সালের চার খুনের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে অবস্থানরত মামুনের সঙ্গেও তাঁদের সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়।

গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বিপিএম, পিপিএম এর নির্দেশনায় গুলশান জোনাল টিমের টিম লিডার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাহবুবুল হক সজীব এর নেতৃত্বে এ অভিযানটি পরিচালিত হয়।

You might also like