আজ খোকসা হানাদার মুক্ত দিবস

৮৫

আজ ৪ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসা হানাদার মুক্ত দিবস।

১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর খুলনা বিভাগে প্রথম খোকসা থানা হানাদার মুক্ত হয়।

থানা সদরের খোকসা হাই স্কুল, শোমসপুর হাই স্কুল, গনেষপুরের গোলাবাড়ির নিলাম কেন্দ্র ও মোড়াগাছায় রাজাকার বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি ছিল। এ জনপদে হত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে এলাকার মুক্তিপাগল মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ইউনিট।

প্রথমে পাকিস্তানি পুলিশ উৎখাতের উদ্দেশ্যে থানা দখলের পরিকল্পনা হয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ ডিসেম্বর রাত ১১ টার দিকে মুজিববাহিনী কমান্ডার আলাউদ্দিন খান, কে এম মোদ্দাসের আলী, আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, নুরুল ইসলাম দুলাল, আলহাজ্ব সাইদুর রহমান মন্টু, রোকন উদ্দিন বাচ্চু, তরিকুল ইসলাম তরু’র নেতৃত্বে ২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা থানা দখলের জন্য চারদিক থেকে আক্রমণ করে। রাতভর গুলি বিনিময়ের পর সকালে ১০৫ জন পুলিশ ও রাজাকার সদস্য আত্মসমর্পণ করে।

৪ ডিসেম্বর খোকসা থানায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন খোকসা জানিপুর পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান, মোদ্দাসের আলী, আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, গোলাম ছরোয়ার পাতা, আলহাজ্ব সাইদুর রহমান মন্টুসহ মুক্তিযোদ্ধারা।

দখল করা প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও আটকদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে ক্যাম্পে পৌঁছালে ৪ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের একটি বড় দল আবার থানা দখলের চেষ্টা করে। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানি সেনা দলটি খোকসা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। হানাদার মুক্ত হয় খোকসা।

করোনা কালীন সময়ে দিবসটি পালনে এ বছর স্বল্পপরিসরে খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা  সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি

 

You might also like