আজ গুরুপূর্ণিমা, করোনায় সীমিত পরিসরে আয়োজন

আজ গুরুপূর্ণিমা, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসমতে, আষাঢ় মাসের পূর্ণিমায় এই বিশেষ তিথি পালিত হয়। পরম্পরা অনুযায়ী গুরুর পূজা বিশেষ রীতিতে করার জন্যই এই দিনটি পালিত হয়। সাধারণত শিক্ষক দিবসের আদলেই গুরু পূর্ণিমাও পালিত হয়ে থাকে। অনুষ্ঠান দু’টির মধ্যে তাৎপর্যগত কোনো পার্থক্য না থাকলেও গুরুপূর্ণিমা ও শিক্ষক দিবস একই উদ্দেশ্যে পালিত হয়।

হিন্দু শাস্ত্রমতে বেদব্যাসকে গোটা বিশ্বের গুরু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কথিত আছে, গুরু শিষ্যের মধ্যে সম্পর্ক অটুট রাখতে নিজের পাঁচ শিষ্যকে নিয়ে গুরু পূর্ণিমার প্রচলন করেছিলেন বেদব্যাস। সেই থেকেই গুরুপূর্ণিমার প্রচলন। আর এ কারণেই বেদব্যাসকে এ দিনে বিশেষভাবে পূজা করা হয়। আজকের এই দিনটিকে মহর্ষি বেদব্যাসের জন্ম জয়ন্তী হিসেবেও পালন করা হয়। সেই কারণে গুরু পূর্ণিমাকে আবার ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। এছাড়া ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরকেও আরাধ্য গুরু হিসেবে বিশ্বাস করা হয়।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বৌদ্ধরাও এই দিনটিকে মহা সাড়ম্বরে উদযাপন করে থাকে। গৌতম বুদ্ধের প্রথম ৫ শিষ্যকে বৌদ্ধধর্মের উপদেশ দেওয়ার পরম্পরাকে সঙ্গে নিয়েই গুরু পূর্ণিমা পালিত হয়। এই দিনে গুরু ও শিষ্যের সম্পর্ককে উদযাপিত করা হয়।

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে দীক্ষিত মানুষরা নিজের গুরুকে পূজা করে থাকেন। এদিন সকালে উঠে সবার প্রথমে পিতামাতাকে প্রণাম করে তাঁদের আশীর্বাদ নিতে হয়। পিতা-মাতাই হলো আসল গুরু এবং তাঁদের আশীর্বাদ ঈশ্বরের আশীর্বাদের সমতুল্য। এরপর গুরু, শিক্ষকসহ অন্যান্য গুরুজনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উপহার প্রদান করার রীতি রয়েছে। এদিন, দুঃস্থ ব্যক্তিদের দান ধ্যান, অন্ন-বস্ত্র দানও করা হয়ে থাকে।

এদিকে, আজ গুরুপূর্ণিমা উপলেক্ষ রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দির, প্যাগোডাতে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিশেষ প্রার্থনা, পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি ও ভোগের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর টিকাটুলীতে শ্রীশ্রীপ্রভু জগদ্বন্ধু মহাপ্রকাশ মঠে এ উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে বিশেষ গুরুপূজা, পুষ্পাঞ্জলি, আরতি, দিনব্যাপী মহানাম কীর্তন ও ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া, সন্ধ্যা ৬টায় গুরুপূর্ণিমার তাৎপর্য নিয়ে ভার্চুয়ালি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে মহানাম সম্প্রদায়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মহানাম সম্প্রদায়ের সভাপতি শ্রীমৎ কান্তিবন্ধু ব্রহ্মচারী।

You might also like