আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ঢাকা, ২৫ আশ্বিন (১০ অক্টোবর) :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
“আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস-২০১৯ পালন উপলক্ষে বাংলাদেশের সকল কন্যা শিশুকে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্নেহাশীষ জানাই। আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘কন্যা শিশুর অগ্রযাত্রা, দেশের জন্য নতুন মাত্রা’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যুগোপযোগী হয়েছে।
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ শিশু, যাদের ৪৮ শতাংশই কন্যা শিশু। এ বিপুল সংখ্যক কন্যা শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে।
বর্তমান সরকার নারী ও কন্যা শিশুদের ক্ষমতায়ন এবং তাদের প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কন্যা শিশুদের কল্যাণে আমরা অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তির প্রবর্তন, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং নারী শিক্ষকদের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ‘শিশু আইন’ প্রণয়ন করেন। বাংলাদেশ জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের অন্যতম অনুস্বাক্ষরকারী দেশ। আমরা জাতীয় শিশুনীতি ২০১১ প্রণয়ন করেছি। নারী ও শিশু নির্যাতন (দমন) আইন-২০০০-এ নতুন ধারা সংযোজন এবং যুগোপযোগী বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
আমাদের গৃহীত এসব পদক্ষেপের ফলে বাল্যবিবাহ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বিদ্যালয়ে ছাত্রী ভর্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনেও আমাদের মেয়েরা সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। বাংলাদেশের মেয়েরা সর্বশেষ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন, ২০১৫ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৭ সালে ভুটানে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
আমার বিশ্বাস, কন্যা শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তারা সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
আমি আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক”

তথ্যবিবরণী