উড়ছেন জিজু, পড়ছেন কিকে

করোনাভাইরাস অতিমারিতে গোটা স্পেনে আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকার মধ্যেই যখন লা লিগা ফের চালু হল, তাঁরা দু’জনে ছিলেন চর্চায়। বলা হচ্ছিল, শুধু লিয়োনেল মেসি বা করিম বেঞ্জেমারা নন, লিগ খেতাবের ভাগ্য নির্ভর করছে দুই চাণক্যের হাতে।

সেই সময়ে বেশি চাপে লাগছিল রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজার জ়িনেদিন জ়িদানকে। তুলনামূলক ভাবে স্বস্তির জায়গায় ছিলেন মেসিদের বার্সেলোনা বস্‌ কিকে সেতিয়েন। কে জানত, মাত্র কয়েক দিনেই দুই ম্যানেজারের পৃথিবী পাল্টাপাল্টি হয়ে যাবে। এখন জ়িদান বেশি স্বস্তিতে, প্রবল চাপে সেতিয়েন।

সেতিয়েন এবং তাঁর সহকারীদের নিয়ে বার্সেলোনা দলের মধ্যেই অসন্তোষ তীব্র হচ্ছে। গত শনিবার ড্রয়ের পরে মেসি সহকারী কোচেদের দিকে তাকাচ্ছিলেনও না। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে কিকের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে। ৭০০ গোলের দেখাও পাচ্ছেন না মেসি। দেখা যাচ্ছে, কিকের অধীনে যে রকম গোল খরা যাচ্ছে তাঁর, তা আর কখনও ঘটেনি। টানা তিন ম্যাচে তিনি গোল পেলেন না।

বার্সেলোনায় যখন তাতা মার্তিনো ছিলেন, তখনও মরসুমে ৪১টি গোল করেছিলেন মেসি। বলা হয়, সেটাই নাকি স্পেনীয় ফুটবলে তাঁর সব চেয়ে খারাপ মরসুম। এ বারে সেই ৪১ সংখ্যাটিও দূরের গ্রহ মনে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে মাত্র ২৬টি গোল। গত দশ বছরে এক বারও মেসির গোল সংখ্যা ৪০টির নীচে নামেনি। ক্রমশ বাড়ছে এই তত্ত্ব যে, কিকের অধীনে সব কিছু ঠিক নেই। 

তেমনই বিশেষজ্ঞরা মানছেন, কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েও জ়িদান অনেক ভাল সামলেছেন রিয়ালকে। ড্রেসিংরুমে এখন কোনও অশান্তি নেই। কিকের বার্সেলোনা দু’বার পয়েন্ট নষ্ট করেছে, কিন্তু জ়িদানের রিয়াল পাঁচটি ম্যাচই জিতেছে। বার্সা ম্যানেজারের আহ্বানে বাগ্‌যুদ্ধেও যোগ দেননি জ়িজ়ু। বার্সার প্রথম ড্রয়ের পরে কিকে বলেছিলেন, ‘‘রিয়ালও নিশ্চয়ই সব ম্যাচ জিতবে না।’’ জ়িদানের প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেক ম্যাচ জিতছি, এটা খাতায় লিখে রাখছি না আমি। জয়-পরাজয় লিগের শেষ দিনে গিয়ে দেখা যাবে।’’ রেফারিং নিয়ে বার্সা শিবিরের গুরুতর অভিযোগেও (রিয়ালের প্রতি তাঁরা পক্ষপাতদুষ্ট)  সংযত প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। দারুণ জবাব দিয়েছিলেন তিনি, ‘‘আমার ফুটবলারেরা বুদ্ধিমান। আর আমাদের মাথায় রয়েছে শুধুই ফুটবল।’’ ইতিমধ্যেই কিকে-কে সরিয়ে জাভিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা উঠেছে। জাভি জানিয়েছেন, তিনি আগ্রহীও।

খেতাবের দৌড়ে থাকা দু’টি দলেরই ছ’টি করে ম্যাচ বাকি। দু’টি দলেরই কঠিন ম্যাচ বাকি রয়েছে।  মঙ্গলবার, ভারতীয় সময় অধিক রাতে বার্সেলোনা নিজেদের মাঠে খেলছে আটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার খেতাফের বিরুদ্ধে নামবে রিয়াল। এর পর ৭২ ঘণ্টারও কম বিশ্রাম পেয়ে জ়িদানের দলের কঠিন পরীক্ষা অ্যাওয়ে ম্যাচে অ্যাথলেটিক ক্লাবের বিরুদ্ধে। বার্সেলোনারও পরের ম্যাচ বাইরে। ভিয়ারিয়ালের বিরুদ্ধে। এবং, কিকের অধীনে অ্যাওয়ে ম্যাচ মানেই মেসিদের আতঙ্কের প্রহর। সূত্র: আনন্দবাজার