এফআর টাওয়ারের ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড; অনুমোদন দেওয়া রাজউক চেয়ারম্যানকে খুঁজছেন গণপূর্তমন্ত্রী

৪৯

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনে নিহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কমিটি তদন্ত করছে। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন সবার সামনে প্রকাশ করবো। আমার মতে, এটা দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।’

শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এফ আর টাওয়ার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিট গঠন করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। রাজউকের পক্ষ থেকেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাও কাজ করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তথ্য পেয়েছি এই ভবনটি ১৮ তলা নির্মাণের জন্য প্ল্যান পাশ হয় ১৯৯৬ সালে। কিন্ত ২০০৫ সালে এসে ভবন মালিক কর্তৃপক্ষ একটা কপি দাখিল করেন যে, ভবনটি ২৩ তলা হয়েছে। সেটাকে সন্দেহ হবার কারণে তদন্ত করা হয়। সেই তদন্তে দেখা যায়, যে কপি তারা দাখিল করেছেন সে সম্পর্কে রাজউকের রেজিস্ট্রারে কোনও তথ্য নেই। কাজেই পরে তারা যে নকশা দাখিল করেছেন সেটা সঠিক নয়, মূল অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে তারা এই ভবন নির্মাণ করেছেন। এসব কারণে সেই সময়ের রাজউক চেয়ারম্যান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এই নকশা অনুমোদনের সময় কোনও ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা ও মূল নকশা ছাড়া এটা তৈরি হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত, সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এই ঘটনায় জড়িত সেই নরপিশাচদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘সেই সময় রাজউকের যে চেয়ারম্যান ছিলেন ও কর্মকর্তা ছিলেন আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এই নকশা অনুমোদনের সময় কোনও ব্যত্যয় ঘটেছে কি না ও মূল নকশা ছাড়া এটা তৈরি করা হয়েছে কি না। হয়ে থাকলে এর সঙ্গে যারা জড়িত, সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। ঢাকার অন্য ভবন যেগুলো এবাবে নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই ভবনের মালিক একজন প্রকৌশলী। তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেসব প্রকৌশলী এই ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে এবং প্রয়োজনে এই ইমারত ভেঙে ফেলা হবে।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ২৩ তলাবিশিষ্ট বনানীর এফ আর টাওয়ারের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫৯ জন।

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি

You might also like