করোনার দিনগুলিতে মানসিক স্বাস্থ্য

আনতারা রাইসা: চারদিকে করোনা আতঙ্ক। মারণ ভাইরাস করোনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। এই মারণ ভাইরাসের হানায় একের  পর এক দেশ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে। তবে এই ভাইরাস মোকাবেলায় কিন্তু কেউই পিছিয়ে নেই। করোনাকে রুখে দিতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই।

দরকার শুধু সামাজিক দূরত্বের। আর নিয়মিত স্যানিটাইজার এবং হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত পরিষ্কার করার। করোনায় আক্রান্ত বিশ্বের প্রায় প্রতিটা দেশেই এখন চলছে লকডাউন। ঘরবন্দি এই দিনগুলোতে তাই মানসিক উদ্বেগ ও চাপ অনুভব করা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘরে বন্দি থেকে বিষণ্ণতায় ডুবে গেলে কিন্তু এই কঠিন দিনগুলো আরো অসহনীয় হয়ে উঠবে। তাই আমাদের মানসিক সুস্থতা খুবই জরুরি।

শারীরিক ভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও মানসিক ভাবে যুক্ত থাকুনঃ আবদ্ধ এই শহরে ঘরে একা থাকতে থাকতে নিজের প্রতি এক্তা বিতৃষ্ণা চলে আসতে পারে। নিজেকে আরো বেশি অসহায় মনে হতে পারে। তাই সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা ফোনে কথা বলার মাধ্যমে নিজের প্রিয়জনদের সাথে যুক্ত থাকুন। নিয়মিত সবার খোঁজখবর রাখুন। এতে করে নিজেকে এই নিথর শহরে আর একা মনে হবেনা।

পরিবারকে সময় দিনঃ পরিবারের সবার সাথে কোয়ালিটি সময় কাটানোর এটি মোক্ষম সময়। কারন স্বাভাবিক সময়ে পরিবারের প্রতিটা মানুষই নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারনে পরিবারকে একসাথে সময় দিতে পারতেন না। এই কোয়ারেন্টাইন সময়ে পরিবারের মানুষদের সাথে বেশি করে গল্প করুন। বিভিন্ন ধরণের বোর্ড গেম খেলতে পারেন। অনেকদিন ধরে পুষে রাখা রাগ বা ক্ষোভটাও কিন্তু এর মধ্যে মিটিয়ে ফেলতে পারেন।

সারাদিন খবর দেখা থেকে বিরত থাকুনঃ সংবাদ এবং সামাজিক মাধ্যম থেকে বিরতি নেওয়া, যা চলছে তা থেকে কিছুটা হলেও নিজেকে দূরে রাখা আপনাকে মাত্রাতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে সহায়তা করবে। আপনি যখন অন্য কোন ক্রিয়াকলাপে সময় ব্যয় করবেন, তখন আপনার মনোযোগ দুশ্চিন্তাগুলো থেকে সরে যাবে।

ব্যায়াম করুনঃ বাড়িতে যতটুক পারা যায় হাঁটাচলা করুন। আপনি ঘরে বসে করতে পারেন এমন প্রচুর ব্যায়ামের ভিডিও রয়েছে ইন্টারনেটে। আপনার ফোনে ডাউনলোড করতে পারেন এবং সেগুলো ঘরে বসে অনুশীলন করতে পারেন । যে কোনো ধরনের ব্যায়াম বা অনুশীলন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মানসিক উদ্বেগ এবং চাপ কমানোর জন্য এটি একটি দুর্দান্ত উপায় এবং সময় কাটাতে সহায়তা করবে।

নিজের পছন্দের কাজ করাঃ এক সময় আপনি হয়তো ভালো গান করতেন, ছবি আঁকতেন অথবা ভালো নাচতেন। জীবনের নানা কাজের চাপে, বাস্তবতার ভিড়ে হয়তো ভুলতে বসেছিলেন নিজের এই শখটাকে। তাহলে আর দেরি কেন? এখনি সময় নিজের শখটাকে ঝালিয়ে নেবার। বের করুন ধুলো পরে যাওয়া হারমোনিয়াম কিংবা ঘুঙুরটাকে। আপনি যা উপভোগ করেন যেমন- বই পড়তে, লেখালেখি, বুনন, গান শোনা,  সিনেমা দেখা, বারান্দায় বাগান করা , পেইন্টিং করা, দাবা বা লুডু খেলা, ধ্যান বা যোগব্যায়াম করুন। যা কিছু আপনাকে আনন্দ দেয় তাই করুন।

জমিয়ে রাখা কাজ করাঃ এমন অনেক চলচ্চিত্র, বই কিংবা সিরিজ হয়তো আপনি জমিয়ে রেখেছিলেন পরে করবেন বলে। সেই সব লিস্ট শেষ করে ফেলার এখনি সময়। যেই বইটি অনেকদিন ধরে পরা হচ্ছেনা সেটি এই অবস্থায় পড়ে ফেলুন। দেখে ফেলুন কিছু ভালো মানের চলচ্চিত্র। এতে করে আপনার সময় যেমন কাটবে তেমনি আপনার সময়টা প্রোডাক্টিভ ও যাবে।

এছাড়াও এখন অনলাইনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রি কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। চাইলে এখন সেটিও করে ফেলা যায়।

আমাদের জন্য এখন আসলে একটি কঠিন সময় যাচ্ছে। এই সময়ে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা তাই খুবই গুরুত্বপুর্ন। একসময় পৃথিবী হয়তো আবার ঠিক হবে কিন্তু তখন যদি এই মানসিক স্বাস্থ্য আপনাকে ভোগায় তাহলে সেই ঠিক হওয়া পৃথিবীর আপনার কাছে কোনো অর্থ থাকবেনা। তাই এখন থেকেই নিজের দিকে খেয়াল রাখুন। নিজের প্রতি আস্থা রাখুন।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি