কারাগারে থেকেও লোকমান হোসেন কিভাবে এখনো বিসিবি‘র পরিচালক

১৫২

লোকমান হোসেন ভূঁইয়া বর্তমানে কারাগারে থেকেও কিভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক পদে বহাল আছেন সে বিষয় নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির অভিযোগে সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও লোকমানের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিসিবি । এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিসিবি।

লোকমান গ্রেফতার হওয়ার পর র‌্যাব জানিয়েছিল, তিনি (লোকমান) অস্ট্রেলিয়ায় টাকা পাচার করেছেন। কিন্তু গতকাল (রোববার) পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কোন মামলা হয়নি। কেন হয়নি, সে সম্পর্কে পুলিশ বা র‌্যাব স্পষ্ট কিছু বলছে না। যদিও র‌্যাবের হাত ঘুরে লোকমান পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে তিন দফা রিমান্ড পার করেছেন।

তবে লোকমানের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গতকাল মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ পরিস্থিতিতে পরিচালক পদে লোকমানকে কেন রাখা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তাঁকে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে।

যে ক্রিকেট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছে, তার সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িত কারও নাম থাকাটা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করেন বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। তাঁর প্রশ্ন, র‌্যাবের হাতে আটক, মামলা ও গ্রেফতারের পর কীভাবে তিনি বিসিবির পরিচালক থাকেন? সাবের হোসেনের মতে, বিসিবি তাঁকে অন্তত কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে পারত। সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার এখতিয়ারও বিসিবির আছে, রায় হওয়ার পর না হয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিত। তাই বলে গঠনতন্ত্রের কথা বলে এ রকম বিতর্কিত ব্যক্তিকে পরিচালনা পরিষদে রাখা ক্রিকেটেরই দুর্নাম।

উল্লেখ্য লোকমানকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তেজগাঁওয়ের মণিপুরিপাড়ার বাসা থেকে চার বোতল বিদেশি মদসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। র‌্যাব-২-এর অধিনায়ক আশিক বিল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, লোকমান মোহামেডান ক্লাবের একটি অংশে ক্যাসিনো ভাড়া দিয়ে ৪১ কোটি টাকা আয় করেছেন। সেই টাকা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকে জমা করেছেন। তাঁর ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। তিনি প্রায়ই অস্ট্রেলিয়ায় যান এবং সেখানকার দুটি ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন।

এই তথ্য প্রকাশের পরও র‌্যাব বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার নামে মামলা করেবিসিবির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, পুরোনো বন্ধুত্বের সুবাদে বিসিবিতে নাজমুল হাসানের কাছের মানুষের একজন হয়ে ওঠেন লোকমান। নাজমুল হাসান তাঁকে পূর্বাচলে নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতেও রেখেছেন।

সাবের হোসেন চৌধুরী মনে করেন, হয়তো বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতেই লোকমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘উনিই (নাজমুল) বলেছেন লোকমান তাঁর বন্ধু। তাঁর প্যানেল থেকে লোকমান বিসিবির পরিচালক হয়েছেন।’

 

নিউজ ডেস্ক /বিজয় টিভি

You might also like