কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অবৈধ ইটভাটার ছড়াছড়ি

৪৪

কোনোরকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার বেশ কয়েকটি ইটভাটায় চলছে ইট তৈরির কাজ। এতে একদিকে যেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশ অন্যদিকে ধূলাবালির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয়দের স্বাস্থ্য। এছাড়া, ইট তৈরির জন্য ট্রাকে করে কাঁচামাল আনা-নেয়ার কারণে নষ্ট হচ্ছে এলাকার প্রধান সড়কগুলো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইটভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও এর প্রতিকার মিলছে না।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের টান জামালপুর গ্রাম। এই গ্রামে গড়ে উঠেছে একতা ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা। ভাটাটি এলাকাবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ধূলাবালির কারণে হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় লোকজনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সারা বছর সর্দি, কাশিসহ শ্বাস-কষ্টের মতো রোগে ভুগছেন স্থানীয়রা।

শুধু টান জামালপুরই নয়; একই অভিযোগ পৌর শহরের ভিতরে নিশ্চিন্তপুর এলাকার লাকী অ্যান্ড উজ্জল অটো ব্রিকসের বিরুদ্ধেও। আঞ্চলিক সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই ইটভাটাটি চলছে ২৫ বছর যাবত। প্রতিদিনই ট্রাক দিয়ে মাটি আনা-নেয়ার কারণে নষ্ট হচ্ছে এলাকার রাস্তা-ঘাট। এছাড়া, ইটভাটার পাশে থাকা চার ফসলি জমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দখলে চলে যাচ্ছে কৃষিজমিও। বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মিলেনি ভুক্তভোগীদের।

এদিকে, সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটা কর্তৃপক্ষ জানায়, সকল নিয়ম মেনেই ইটভাটা পরিচালনা করছেন তারা।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, পাকুন্দিয়া উপজেলায় মোট ১৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই চলছে ১২টি ইটভাটা। ইতিমেধ্যে বিভিন্ন ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস করেন। কোন রকম অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার কারণে জনবান্ধব সরকারের গ্রিনগ্রোথ পরিকল্পনা যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি কার্বন নিঃসরনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হতে রক্ষা পেতে দ্রুত এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

You might also like