খালেদার সাজা মওকুফের বিষয়ে পরীক্ষা হচ্ছে, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৭৭

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। একইসঙ্গে তার দণ্ডাদেশ মওকুফের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আজ বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার দণ্ড দ্বিতীয় দফায় ৬ মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে। আগামী ২৪ মার্চ সেই স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোসহ কয়েকটি দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সময়টা (বেগম জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ) বোধহয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেজন্য তারা আবার সময়টা এক্সটেনশন করার জন্য, আরও কিছু শর্ত শিথিল করে এক্সটেনশন চেয়েছেন। উনি যা চেয়েছেন আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।’

তারা কী চেয়েছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা তাদের পত্রে শর্ত আরও শিথিল করে, করোনাকালে চিকিৎসা নিতে পারেননি সেটি জানিয়েছেন। এছাড়া তার দণ্ডাদেশ মওকুফ করা যায় কি না সে বিষয়েও তারা বলেছেন।’

এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে তা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো বলছি এটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। আইন মন্ত্রণালয় থেকে মতামত আসলে আমাদের যথাযোগ্যদের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চিঠি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে কি না, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা মাত্র গতকাল আসলো, পাঠানো হবে।’

আবেদনে বেগম জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যেতে চাওয়ার কোনো বিষয় আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা সবসময় তার চিঠিতে লেখা থাকে। রেফারেন্সে থাকে বিদেশে যাওয়ার, সেরকম লেখা থাকে কিন্তু উনি তো এখনো কারাগারেই আছেন। তার বাড়িটা এখন কারাগার হিসেবেই তিনি এখানে আছেন।’

সাজা মওকুফের কোনো সুযোগ আইনগতভাবে আছে কি না তা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য চেয়েছে। আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। আমি তো আগেই বলেছি আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময় যতখানি সম্ভব সেটুকু ব্যবস্থা উনি করছেন।’

আসাদুজ্জামান খান আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হলেন মানবতার জননী। তিনি যখনই কাউকে দেখেন এ রকম অবস্থায় তখন তো তিনি সবসময় তার সহযোগিতা করে থাকেন। এক্ষেত্রেও তিনি তাকে উন্নত চিকিৎসা তার বাসায় থেকে যাতে পায় এবং সে যেন তার যে অন্যান্য অসুবিধাগুলো ছিল, চিকিৎসা যেন আরও সুন্দরভাবে পায়, সেজন্যই তিনি শর্তসাপেক্ষে তার বাসায় থাকার অনুমতির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’

আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে খালেদা জিয়ার দণ্ড দ্বিতীয় দফায় ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

মুক্তির বর্ধিত মেয়াদে খালেদা জিয়া নিজ বাসায় থেকে তার চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। এবং এই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। দণ্ড স্থগিতের আদেশ গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছিল।

You might also like