চট্টগ্রামে মা ও মেয়েকে খুন

২৫৪

নগরের খুলশী থানাধীন আমবাগান ফ্লোরাপাস রোড এলাকায় বাড়ির রিজার্ভ ট্যাংকে পাওয়া  মা’কে শ্বাসরোধে হত্যা ও মেয়েকে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

এমনটা নিশ্চিত হয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের কর্মকর্তারা। মরদেহগুলো রিজার্ভ ট্যাংক থেকে উদ্ধারের পর মেয়ে মেহেরুন নেসার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। মা মনোয়ারা বেগমের শরীরের কোনো আঘাতের চিহ্ন না পেলেও তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পু্লশি।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়দের খবরে খুলশী থানার আমবাগান ফ্লোরাপাস রোডে মেহের মঞ্জিলের রিজার্ভ ট্যাংকে মা ও মেয়ের মরদেহ খুঁজে পায় পুলিশ। নিহত দুইজন হলেন-চাঁদপুর জেলার মতলব পুরানবাজার এলাকার ফজলুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৯৭) ও তার মেয়ে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকতা শাহ মেহেরুন নেসা বেগম (৬৭)। মেহেরুন নেসা রূপালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলেন। কয়েকবছর আগে তিনি অবসরে যান। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।

বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ মরদেহগুলো রিজার্ভ ট্যাংক থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের বাড়ি থেকে জিনিসপত্র খোঁয়া গেছে কি না নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আবদুল ওয়ারিশ জানান, মেহেরুনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে খুনিরা। তবে মোবাইল দু’টিতে ব্যবহৃত সিমগুলো ফেলে গেছে। সিমগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এছাড়া বাড়ির ছাদ থেকে একটি শাবল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এ শাবল হত্যার ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের জানান, সবকিছু দেখে এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে নিশ্চিত হয়েছি। তবে কী কারণে এ হত্যাকান্ড, তা বলা যাচ্ছে না।

নিহত মেহেরুন নেসার ভাগিনা বেলাল উদ্দিন বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। ধারণা করছি আমার খালাদের সম্পত্তি ও টাকা আত্মসাতের জন্য তাদের খুন করা হয়েছে। আমার খালা প্রায় সময় বলতেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা খুব বিরক্ত করছেন। এ জায়গা বিক্রি করে দেবো। ক্রেতা দেখো।

মেহেরুন নেসার প্রতিবেশী মাকসুদুর রহমান বাবুল বলেন, মেহেরুন নেসার ছোট ভাই মাসুদ আমেরিকা থেকে সকালে বোনের মোবাইলে ফোন দিয়ে নাম্বার বন্ধ পান। পরে আমাকে ফোন দিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। আমি সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখি গেইট বন্ধ।

পরে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তলা দিয়ে বাড়ির ভেতর গিয়ে জিনিসপত্র এলোমেলো ও আলমারি ভাঙা দেখতে পাই। পরে পুলিশকে খবর দেই।খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কুসুম দেওয়ান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আবদুল ওয়ারিশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।

 

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি

You might also like