চালকদের দাবিগুলোর কোথাও অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে

১১৪

পরিবহন চালকদের ৯ দফা দাবি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ দাবিগুলোর মধ্যে কোথাও অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল । আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটরিয়ামে আয়োজিত ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

২১ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ চলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবহন চালক ভাইদের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে একটা জটিলতা ছিল। সেটি নিয়ে গতকাল বুধবার রাতে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের দেওয়া দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য চালকদের একটা সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা তাদের লাইসেন্স ঠিক করে নেবেন।’

আইন না মানা আমাদের সংস্কৃতি হয়ে গেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ আইন মানতে চায় না। যদি সবাই আইন মেনে চলে, তবে কোনও সমস্যা থাকে না। শুধু ট্রাফিক আইন নয়, সব পর্যায়ে সবাই আইন মেনে চললে অপরাধ অনেক কমবে। সব পর্যায়ে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি চালু হোক, এটাই আমার চাওয়া।’

মন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে যারা বাস-ট্রাক চালায়, তাদের দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালাতে হয়। তাই তাদের নির্দিষ্ট সময় পর বিশ্রামের প্রয়োজন। একটা চালক আট ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর তাকে বাধ্যতামূলক বিশ্রাম নিতে হবে। মহসড়কে বিভিন্ন জায়গায় চালকদের বিশ্রামের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।’

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সড়কে আইন প্রয়োগ করতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনেকেই বড় হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বদলির হুমকি দেয়। ‘পুলিশের কেউ যদি সড়কে আইন প্রয়োগ করে তবে এর জন্য কোনও কর্মকর্তা বদলি হবেন না। আমি এটা আশ্বস্ত করছি। তবে সবার ব্যবহার বিনয়ী হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রধানত ইঞ্জিনিয়ারিং, এডুকেশন, এনফোর্সমেন্ট এই ট্রিপল ই বিবেচনায় রাখা হয়। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছাড়াও কয়েকটি সংস্থা কাজ করে। যেমন−সিটি করপোরেশন, রাজউক, বিআরটিএ। এর মধ্যে পুলিশ শুধু এনফোর্সমেন্ট দেখে। কিন্তু সড়কে কোনও সমস্যা হলেই সবাই ট্রাফিক পুলিশকে দোষারোপ করেন। একটা সিটির রাস্তা থাকা প্রয়োজন ২৫ শতাংশ। কিন্তু আমাদের আছে মাত্র ৮ শতাংশ। এটি আদর্শ একটি সিটির তিন ভাগের এক ভাগেরও কম। তবুও এটুকু সড়ক ব্যবহার করা হয় না।’

তিনি বলেন, ‘সড়কে সহাবস্থানে বাস বে না থাকলেও বাস থামার নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। কিন্তু চালকরা সেটা না মেনে বাস স্টপেজের আগে পরে থামে। এতে পথচারী ও যাত্রীদের সমস্যা হয়। এর জন্য সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে।’

আইজিপি বলেন, ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি সভ্য জাতির প্রতীক−এই স্লোগান নিয়ে আমরা সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে ট্রাফিক সচেতনতামূলক পক্ষ শুরু করেছি।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কে যদি চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকে তবে আমাদের মামলা করার কোনও প্রয়োজন নেই। রাস্তায় সবাই আগে যেতে চায়। এই পাল্লাপাল্লির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি

You might also like