জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে ইউরোপের পথে প্রধানমন্ত্রী

গ্লাসগো জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে (কপ২৬) যোগ দিতে যুক্তরাজ্যের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমিত রাখা, জলবায়ু তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়নসহ তিনটি প্রস্তাব তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন এই সম্মেলনে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি শেখ হাসিনা এবারের জলবায়ু সম্মেলনে ঝুঁকির মুখে থাকা ৪৮ দেশের জোট ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামেরও (সিভিএফ)’ নেতৃত্ব দেবেন।

দুই সপ্তাহের এই সফরে ফ্রান্সেও যাবেন প্রধানমন্ত্রী, জলবায়ু সম্মেলনের পাশাপাশি অংশ নেবেন সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ বিতরণ এবং ইউনেস্কোর ৭৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে রোববার সকাল ৯টা ২৭ এ ঢাকা ত্যাগ করেন সরকারপ্রধান ও তার সফরসঙ্গীরা।

স্কটল্যান্ডের স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ৩টায় গ্লাসগোর প্রেস্টউইক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাদের।

গ্লাসগোয় ৩১ থেকে ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘের কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (কপ) ২৬তম আয়োজন। সোম ও মঙ্গলবার সম্মেলনের শীর্ষ বৈঠকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা; বক্তব্য দেবেন প্রথম দিন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আটকে রাখেতে ‘ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কনট্রিবিউশনস (এনডিসি)’ ঠিক করা, ১০০ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিলের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরবেন।

সোমবার সকালে স্কটিশ ইভেন্ট ক্যাম্পাসের কমনওয়েলথ প্যাভিলিয়নে ‘সিএফভি- কমনওয়েলথ হাই লেভেল প্যানেল ডিসকাশন অন ক্লাইমেট প্রসপারিটি পার্টনারশিপ’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

এদিন তিনি শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গোটাবায় রাজাপাকসে এবং কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। সম্মেলনের ব্রিটিশ প্যাভিলিয়নে ‘অ্যাকশন অ্যান্ড সলিডারিটি- দ্য ক্রিটিক্যাল ডিকেড’ শীর্ষক একটি বৈঠকেও অংশ নেবেন।

সোমবার বিকালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে কপ২৬ এর ভিভিআইপি সংবর্ধনায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।

সন্ধ্যায় স্কটল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজনে এক নাগরিক সংবর্ধনায় ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের স্কটিশ প্যাভিলিয়নে উইমেন অ্যান্ড ক্লাইমেট চেইঞ্জ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন। দুপুরে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জনের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। পরে যোগ দেবেন কমনওয়েলথ সংবর্ধনায়। বিকালে ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সূচি রয়েছে।

একই দিনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং অষ্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

‘ফোর্জিং এ সিভিএফ কপ২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিট এর সমাপনী পর্বেও অংশ নেবেন তিনি।

সন্ধ্যায় স্কটিশ পার্লামেন্টের স্পিকার অ্যালিসন জনস্টোন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। স্কটিশ পার্লামেন্টে ‘এ বাংলাদেশ ভিশন ফর গ্লোবাল ক্লাইমেট প্রসপারিটি’ শীর্ষক ভাষণ দেবেন।

বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী গ্লাসগো থেকে যাবেন লন্ডনে।ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোইলের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে সেদিন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিটের যোগ দেবেন এবং লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

৯ নভেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে যাবেন প্যারিসে। সেদিনই এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জিন কাস্টেক্সের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। পরে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ফর দ্য ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বিতরণ অনুষ্ঠান এবং ইউনেস্কোর ৭৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

১৩ নভেম্বর ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। সেদিনই তিনি দেশের পথে রওনা হবেন এবং ১৪ নভেম্বর সকালে ঢাকা পৌঁছাবেন।

You might also like