জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

৭৭

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ২৩ জানুয়ারি জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সমিতি (বিএসটিডি) ২৫তম জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবস ও ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করছে জেনে আমি আনন্দিত।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ পুনর্গঠন এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে পল্লী উন্নয়নভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা অন্যতম। তিনি যথার্থই অনুভব করেছিলেন যে, গ্রামভিত্তিক বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ও গবেষণার কোন বিকল্প নাই।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডার মূল লক্ষ্য। বিশ্বায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মুক্তবাজার অর্থনীতি, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ। আমাদের সরকার গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রশিক্ষণখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের নানাবিধ উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার গত অর্থবছরে ২৩.৬ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ মানবসম্পদ উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত খাতসমূহ যেমন শিক্ষা ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, নারী ও শিশু, সমাজকল্যাণ, যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন, সংস্কৃতি, শ্রম ও কর্মসংস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যয় করেছে।

দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা ও মজুরি বাড়ানোর লক্ষ্যে Skills for Employment Investment Program-এর আওতায় ১৫ লক্ষ মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমকে সমন্বিত আকারে পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (NSDA) গঠিত হয়েছে। অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি ও দক্ষকর্মীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিধিমালা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নীতিমালা, জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৯ প্রণীত হয়েছে এবং এর জনবল কাঠামো অনুমোদিত হয়েছে। এই তহবিল যথাযথভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক লোক দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসকে সেবাধর্মী, উন্নয়নবান্ধব ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের পরিসর বাড়ানোসহ নানারকম সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্যাডার অফিসারদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে।

বিএসটিডি দীর্ঘকাল ধরে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণ বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা, সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সমন্বয়মূলক কাজ ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ আয়োজন করে রাষ্ট্রের মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনেও বিএসটিডি তাদের গৃহীত কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের সরকারের রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

আমি ২৫তম জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবস এবং বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সমিতির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

You might also like