জাপানে জাতীয় শোক দিবস পালন

জাপানের রাজধানী টোকিওতে গভীর শ্রদ্ধা আর যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

আজ রোববার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্যে দিয়ে শোক দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সঙ্গে পতাকা অর্ধনমিত করেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

করোনা মহামারি সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়ায় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি অপশক্তি ও একাত্তরের পরাজিত শক্তি যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি এবং যারা বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তারাই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে হত্যা করেছিল।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমেই বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে সর্বদা পাশে থাকায় প্রতিমন্ত্রী জাপান সরকার ও জনগণের প্রতি ধন্যবাদ জানান। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেও ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আজকের এ শোকসভা আয়োজন করার জন্য এবং এমন মহতি আয়োজনে কথা বলার সুযোগ করে দেয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিওকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

রাষ্ট্রদূত আহমদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন বাঙালি জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনিই জাতিকে এনে দিয়েছেন স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আজ বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার স্বপ্ন, আদর্শ ও নির্দেশনা এখনো আমাদের সঠিক পথ দেখায়। আর তার দেখানো পথ ধরেই তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে চলেছেন।

আলোচনা পর্বে প্রবাসী নেতারা জাতীয় শোক দিবসের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করেন এবং এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে আরো উদ্যোম ও দেশপ্রেম নিয়ে দেশের উন্নয়নে অধিকতর অবদান রাখার অঙ্গীকার করেন।

এছাড়া এসময় বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন-কর্ম নিয়ে ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।