জয়ের পথে বাংলাদেশ

৮৫

বাংলাদেশ স্পিনারদের বল পড়তেই পারছেন না উইন্ডিজ ব্যাটসম্যানরা। একের পর এক উইকেট হারাচ্ছে। সবশেষ যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দিলেন রোচ। তাকে এলবিডব্লিউ করে প্যাভিলিয়নে পাঠালেন তাইজুল ইসলাম। এতে জয়ের পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ১৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে তাইজুল ইসলাম।

শেষ খবর পর্যন্ত ৭৫ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে হারের প্রহর গুনছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য এখনও তাদের দরকার ১২৯ রান। হাতে আছে মাত্র ২ ব্যাটসম্যান।

২০৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে শুরুতেই হোঁচট খায় উইন্ডিজ। সূচনালগ্নেই কাইরন পাওয়েলকে ফিরিয়ে দেন সাকিব। এ নিয়ে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ক্রিকেটের অভিজাত সংষ্করণে ২০০ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। পরে টিকতে দেননি শাই হোপকেও। একইভাবে এ টপঅর্ডারকে ফিরিয়ে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

সেই চাপের মধ্যে জোড়া আঘাত হানেন তাইজুল। একই ওভারে ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট ও রোস্টন চেজকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ফেরান তিনি। এতে বিপর্যয়ে পড়েন অতিথিরা। এ পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন শিমরন হেটমায়ার। সফলও হচ্ছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসের মতো এ ইনিংসেও বিধ্বংসী হয়ে উঠছিলেন। তবে তাকে বেশিদূর এগোতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। নাঈম হাসানের ক্যাচে পরিণত করে এ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানের (২৭) বিষদাঁত ভেঙে দেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের একটু হলেও প্রতিরোধ ছিল সেই পর্যন্ত। পরক্ষণেই দুর্দান্ত ফ্লাইট ডেলিভেরিতে শান ডাওরিচকে এলবিডব্লিউ করে তাদের মহাবিপর্যয়ে ফেলেন তাইজুল।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের ৫ উইকেটে ৫৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন খেলতে নামে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ১১ ও মেহেদী হাসান মিরাজ শূন্য রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। তবে শুরুটা ভালো এনে দিতে পারেননি তারা। স্কোর বোর্ডে ১৪ রান যোগ হতেই গ্যাব্রিয়েল শ্যাননের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুশফিক (১৯)।

দিনের শুরুতেই মিস্টার ডিপেন্ডেবল ফিরলেও লড়াই চালিয়ে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন তিনি। তাতে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু হঠাৎই খেই হারান মিরাজ। দেবেন্দ্র বিশুর বলে শান ডাওরিচকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এ অলরাউন্ডার। ফেরার আগে লড়াকু ১৮ রান করেন তিনি।

পরে নাঈম হাসানকে নিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। তবে তাকে যথার্থ সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন নাঈম। বিশুর বলে শাই হোপকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। সঙ্গী হারিয়ে টিকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও। একই বোলারের শিকার হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ১ চার ও ১ ছক্কায় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন মিস্টার কুল।

টাইগার শিবিরে শেষ পেরেকটি ঠুকেন জোমেল ওয়ারিক্যান। তাইজুল ইসলামকে রোস্টন চেজের তালুবন্দি করে ফেরান তিনি। এতে ১২৫ রানে থামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। আগের ইনিংসের ৭৮ মিলে মোট লিড দাঁড়ায় ২০৩।

ক্যারিবীয়দের হয়ে বিশু নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। ৩ উইকেট নেন চেজ। ২টি ঝুলিতে ভরেন ওয়ারিক্যান।

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি

You might also like