ডাকসু নির্বাচনে ২৫তম ভিপি হিসেবে ডাকসুর গৌরবমাখা ইতিহাসে নুরুল হক

দীর্ঘ ২৮ বছর পর সোমবার (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ১১ হাজার ৬২ ভোট পেয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নুরুল হক ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ২৫তম ভিপি হিসেবে ডাকসুর গৌরবমাখা ইতিহাসের অংশ হলেন তিনি। অন্যদিকে ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী জিএস এবং সাদ্দাম হোসেন এজিএস হিসেবে জয় পেয়েছেন। ডাকসুর মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২৩ টিতেই ছাত্রলীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ১৮টি হল সংসদের মধ্যে ১২ টিতে ভিপি পদে জয়ী হয়েছে ছাত্রলীগ। বাকি ছয়টি হলে ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অন্যদিকে ছাত্রদের হলে ছাত্রলীগ প্রায় একচেটিয়া জয় পেলেও ছাত্রীদের পাঁচটি হলের মধ্যে চারটিতেই হেরেছেন তারা।

এই নির্বাচনে ৬টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নিলেও ছাত্রদল, বাম দলগুলোর জোট, ছাত্র ফেডারেশনের প্রার্থীরা হল ও কেন্দ্রী সংসদের কোনও পদেই জয় পায়নি। অবশ্য সোমবার ভোট ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। আবার সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ভোট বর্জন করলেও ভিপি পদে নুর জয়ী হওয়ায় এখন ‘তার কুল রাখি না শ্যাম রাখি’ অবস্থা। একবার তিনি শপথ নিতে চাইছেন, আরেকবার নিজের পদসহ সব পদে পুননির্বাচন চাইছেন। তবে এই নির্বাচন নিয়ে যত ডামাডোলই ঘটুক না কেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নির্বাচিতদের মেয়াদ হবে এক বছরের। আর এজন্য পৃথক কোনও শপথের বিধানও নেই।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচিত কর্মকর্তারা এক সেশনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন এবং পরবর্তী নির্বাচিত নেতৃত্ব দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

ডাকসুর সাবেক নেতারা বলছেন, ডাকসু নির্বাচনের পর নতুন নেতৃত্ব শপথ গ্রহণ করার বিষয় হয়নি। শপথ গ্রহণ করার কোনও অনুষ্ঠানও হয়নি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উপস্থিতিতে অভিষেক অনুষ্ঠান হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজন করে সংশ্লিষ্ট বিজয়ী নেতৃত্ব।

১৯৭৯ সালে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘আমার সময় তো কোনও শপথ নেওয়ার মতো কিছু হয়নি। দায়িত্ব হস্তান্তর বলেও কিছু হয়নি। আমরা বড় করে অভিষেক অনুষ্ঠান করেছিলাম। সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম।’

ডাকসু গঠনতন্ত্রের ৬ (গ) ধারা বলছে, ইউনিয়নের নির্বাচিত নেতৃবৃন্দরা এক সেশনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন এবং পরবর্তী নির্বাচিত নেতৃত্ব দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

ডাকসুর নির্বাচনে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শপথের কোনও বিষয় নেই। তবে ডাকসুর সভাপতি মাননীয় উপাচার্য একটি সভা ডাকবেন। সেখানে দায়িত্ব দেওয়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’

এ দিকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্যানেলগুলোর নেতারা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিন দিনের একদিন পার হয়েছে। বাকি দুই দিনের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে জটিলতার নিষ্পত্তি না ঘটলে নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্তে যাবেন উপাচার্য সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি