ডিজেলের গাড়ি কিনছে না মানুষ!

ডিজেলের খড়গ নেমে এসেছে ব্রিটিশ গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের ওপর। আগের তুলনায় এখন বিক্রি কমে গেছে প্রায় এক তৃতীয়াংশ।

পরিসংখ্যান বলছে, গেলো বছরের মার্চের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে ডিজেলচালিত গাড়ি বিক্রি কমেছে ৩৭ শতাংশ।এমন অবস্থায় নিজেদের ঘাড় সোজা রাখতে কোম্পানিটি পরিকল্পনা করছে, তারা প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে। একইসঙ্গে অন্তত বড় দুইটি প্লান্ট বন্ধ করে দিবে।

ল্যান্ড রোভারের উৎপাদিত গাড়ির মধ্য ৯০ শতাংশ এখন পর্যন্ত ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের। সে হিসেবে হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়িতে কোম্পানিটি এখনও সেভাবে মন দিতে পারেনি।একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া (বেক্সিট) নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও ডিজেলের ওপর বসতে যাওয়া ট্যাক্স নিয়ে দ্বন্দ্বে ফাঁদে পড়েছে ল্যান্ড রোভার।

আর এ কারণে বিক্রি কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলচালিত গাড়ি পরিবেশ দূষণের একটি অন্যতম কারণ। এটি প্রতিনিয়ত বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড ছড়িয়েই যাচ্ছে।

এই দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজেলচালিত গাড়ি নিরুৎসাহিত করতে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বাড়তি ফি আরোপের বন্দোবস্ত করছেন। তার প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আগামী ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত যেসব গাড়ির বয়স চার বছরের বেশি হবে, তাদের লন্ডনের মধ্যে চলাচলের ওপর দৈনিক হারে  প্রায় সাড়ে ১২ পাউন্ড ফি দিতে হবে।

তবে এই দ্বন্দ্বে ল্যান্ড রোভারের কতজনকে চাকরিচ্যুত হতে হবে তা সুনির্দিষ্টভাবে ওই সূত্র উল্লেখ করেনি।এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলছে, আমাদের গাড়ি শিল্পে বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক ইংগিত আসার আগেই আমরা উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বয় করতে চাই। সে হিসেবে কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। ‘আর এটা ঘটবে আগামী ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে। ওই দুই প্লান্ট থেকে যারা চাকরি হারাবে তাদের চুক্তি আর নবায়ন করা হবে না।’এর আগে গেল জানুয়ারিতে কোম্পানিটি জানিয়েছিল, তারা কিছু প্লান্টে উৎপাদন কমিয়ে দেবে।

রয়টার্সের খবরে বলা হচ্ছে, বেশকিছু দেশে ডিজেলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধের ঝুঁকি এবং ট্যাক্স আরোপের শঙ্কায় ক্রেতারা এ ধরনের গাড়ি কেনা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মতো ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিও ধরা খাচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক, বিজয় টিভি