তাইজুল ও মিরাজের ঘূর্ণিতে ৩০৪ রানে শেষ হল জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস

৪৯

দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিন বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াই করার মানসিকতা দেখিয়েছে সফরকারীরা। ব্রেন্ডন টেলর ও পিটার মুরের দৃঢ়তায় প্রথম ইনিংসে ৩০০ রান ছাড়াতে পারলেও ফলোঅনে রয়েছে সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে গেছে ৩০৪ রানে। শেষ ব্যাটসম্যান চাতারা ইনজুরিতে থাকায় ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। ফলে জিম্বাবুয়ের ইনিংস শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ লিড পেয়েছে ২১৮ রানের।

প্রথম সেশনের ঘণ্টা খানেক প্রতিরোধ দিলেও ধীরে ধীরে সেই প্রতিরোধের দেওয়ালে ফাটল ধরিয়েছিলেন স্পিনার তাইজুল ও মিরাজ। দ্বিতীয় সেশন পর আবারও প্রতিরোধের দেয়ালটা লম্বা করে জিম্বাবুয়ে। অভিজ্ঞ ব্রেন্ডন টেলর ও পিটার মুরের দৃঢ়তাতেই মাথা তুলে দাঁড়ায় প্রথম ইনিংসে।

এক পর্যায়ে জিম্বাবুয়েকে শঙ্কা ঘিরে ধরেছিলো দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার। প্রথম সেশনে দুই উইকেট পরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সেশনে দ্রুত আরও দুই উইকেট পড়লে তেমনই বিপদের মুখে ছিলো সফরকারীরা। এমন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিরোধ গড়েন ব্রেন্ডন টেলর ও পিটার মুর। তৃতীয় সেশনে এই জুটিতে ভর করেই দুইশো ছাড়ায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ৪টি টেস্ট সেঞ্চুরির তিনটি করা টেলর দ্বিতীয় টেস্টেও তুলে নিয়েছেন আরেকটি। পিটার মুরও দ্রুত গতিতে ব্যাট চালিয়ে বিদায় নেওয়ার আগে করেছেন ৮৩ রান। তবে একেবারে যে নির্বিঘ্নে ছিলো এই জুটি এমনটা নয়। ৮৮তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ উঠেছিলো পিটার মুরের। কাভারে দাঁড়ানো নাজমুল ইসলাম অপু লুফে নিতে পারেননি সেই ক্যাচ। ব্যক্তিগত ৯৪ রানে ক্যাচের সুযোগ দিয়েছিলেন টেলরও। তাইজুলের ঘূর্ণিতে আসা সেই ক্যাচ গ্লাভসে জমাতে পারেননি মুশফিক।

তবে ৯২তম ওভারে আরিফুলের বলে শেষ রক্ষা হয়নি পিটার মুরের। ৮৩ রানে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরে গেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে এই জুটিতেই এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ১৩৯ রান। পিটার মুর অবশ্য রিভিউ নিলেও কাজে আসেনি। বহাল থাকে অনফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত। মুরের বিদায়ের পর টেলরের প্রতিরোধ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। ৩০০ রানের কাছে পৌঁছে মিরাজের বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন ১১০ রানে। ১৯৪ বলের এই দায়িত্বশীল ইনিংসে ছিলো ১০টি চার। তার বিদায়ের পর মিরাজের ঘূর্ণিতে ফিরে যান নতুন নামা ব্রেন্ডন মাভুতা।

শেষ দিকে কাইল জার্ভিস ও রেগিস চাকাভা মিলে হাল্কা প্রতিরোধ দিলেও তাইজুলের ঘূর্ণিতে অবশেষে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। এরমধ্য দিয়ে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন তাইজুল। সাকিব আল হাসান ও এনামুল জুনিয়ার এমনটি করেছেন এর আগে। এছাড়া তিনটি উইকেট নেন মিরাজ।

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি

You might also like