দুর্দান্ত শুরু -শেষে মন্দ, ম্যাচ হারল বাংলাদেশ

শুরু এবং শেষের এই যে অমিল- তাতেই রাজকোটের টি- টোয়েন্টির অর্ধেক রাজত্ব হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। বাকি অর্ধেকটা ছিনিয়ে নিল রোহিত শর্মার ঝড়ো ব্যাটিং। ম্যাচ শেষে হারের কারণ বিশ্লেষণে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের ময়না তদন্তের রিপোর্টে সব দায়ভার এককভাবে চাপল ব্যাটসম্যানদের ঘাড়েই। টাইগারদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৫৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৫.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে ভারত। ৮ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরলো টিম ইন্ডিয়া। আগামী ১০ নভেম্বর নাগপুরে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি দুই দলের জন্য সিরিজ জেতার লড়াই হয়ে থাকল।

বাংলাদেশ ইনিংসের ১৮ নম্বর ওভারে রান এলো মাত্র ৪। ১৯ নম্বর ওভারেই তাই, আরো ৪। শেষ এবং ২০তম ওভারে মিলল ৯ রান। অর্থাৎ ইনিংসের শেষ ১৮ বলে যোগাড় মাত্র ১৭ রান। শেষের এই সামান্য সঞ্চয়ই বাংলাদেশকে মুলত সরিয়ে দিল রাজকোটের ম্যাচ থেকে। হাতে উইকেট এতো এতো। কিন্তু শেষ তিন ওভারে বলের চেয়ে রানই কম তুলল বাংলাদেশ।

উদ্বোধনী জুটিতে নামা লিটন দাশ ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ নেমে লাল-সবুজদের উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। ৭.২ ওভারে ৬০ রান তোলেন তারা। এর আগে ষষ্ঠ ওভারে যুজবেন্দ্র চাহালের ঘূর্ণিতে স্টাম্পিং হয়েও বেঁচে যান লিটন। ভারতীয় উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্ত স্টাম্প থেকে এগিয়ে এসে বল ধরেন। তবে অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন লিটন দাশ। ২১ বলে ৪টি চারে ২৯ করার পর ঋষভ পন্ত তাকে রান আউট করেন। ১১তম ওভারে দারুণ খেলা মোহাম্মদ নাঈম শেখ ফেরেন। ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি শ্রেয়াস আইয়ারকে ক্যাচ দেন। ৩১ বলে ৫টি চারে ৩৬ করেন এই বাঁহাতি। প্রথম ম্যাচের হাফসেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম এদিন সুবিধে করতে পারেননি। ১৩তম ওভারে ওভারের প্রথম বলে যুজবেন্দ্র চাহালকে তুলে মারতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হন। পরে একই ওভারের ষষ্ঠ বলে স্টাম্পিং হন দারুণ খেলতে থাকা সৌম্য সরকার। ২০ বলে ২টি চার ও এক ছক্কায় ৩০ করেন তিনি। ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে বিদায় নেন আফিফ হোসেন। খলিল আহমেদের বলে উড়িয়ে মেরে রোহিত শর্মার ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ধীর ব্যাটিংয়ে ৮ বলে ৬ রান করেন তিনি। ঝড়ো ব্যাটিং করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাজে এক শট খেলে আউট হন। ১৯তম ওভারে দীপক চাহারের স্লো বাউন্সারে পেছনে মারতে গিয়ে শিভাব দুবের ক্যাচে মাঠ ছাড়েন। ২১ বলে ৪টি চারে ৩০ করেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। মোসাদ্দেক হোসেন ৭ ও আমিনুল ইসলাম ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে যুজবেন্দ্র চাহাল সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন। এছাড়া দীপক চাহার, খলিল আহমেদ ও ওয়াশিংটন সুন্দর একটি করে উইকেট ভাগ করে নেন। ১৫৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার শিখর ধাওয়ান ম্যাচের ১১তম ওভারে আমিনুল ইসলামের ঘূর্ণি মিস করে বোল্ড হন। তার আগে ২৭ বলে চারটি চারের সাহায্যে করেন ৩১ রান। দলীয় ১১৮ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় ভারত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৩/৬ (লিটন ২৯, নাঈম ৩৬, সৌম্য ৩০, মুশফিক ৪, মাহমুদউল্লাহ ৩০, আফিফ ৬, মোসাদ্দেক ৭*, আমিনুল ৫*; চাহার ৪-০-২৫-১, খলিল ৪-০-৪৪-১, সুন্দর ৪-০-২৫-১, চেহেল ৪-০-২৮-২, দুবে ২-০-১২-০, ক্রুনাল ২-০-১৭-০)

ভারত: ১৫.৪ ওভারে ১৫৪/২ ( রোহিত ৮৫, ধাওয়ান ৩১, রাহুল ৮*, শ্রেয়াস ২৪*; মুস্তাফিজ ৩.৪-০-৩৫-০, শফিউল ২-০-২৩-০, আল আমিন ৪-০-৩২-০, আমিনুল ৪-০-২৯-২, আফিফ ১-০-১৩-০, মোসাদ্দেক ১-০-২১-০)।

ফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী

 

 

নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি