ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ধর্মকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে সমাজে নৈরাজ্য ও বিভাজন সৃষ্টির জন্য ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে বলেছেন, সরকার আর এই অন্যায় কাজগুলি সহ্য করবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশে ধর্মের নামে আমরা কোন ধরনের বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দিব না,’ তিনি আজ সন্ধ্যায় বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে কিছু ইসলামপন্থী দল জাতির পিতার ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রতিক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

‘বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ধর্মান্ধ নয়। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করবেন না। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, প্রত্যেককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রাখেন,’ যোগ করেন তিনি।

ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে এ দেশের মানুষ প্রগতি, অগ্রগতি এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১’র পরাজিত শক্তি একটি অংশ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া বক্তব্য দিয়ে (জাতির পিতার ভাস্কর্য তৈরীর বিষয়ে) সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে ইদানিং মাঠে নেমেছে। সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।

‘জাতির পিতা ১৯৭২ সালে ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার না করতে বলেছিলেন,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু পরাজিত শক্তির দোসররা দেশকে আবার ৫০ বছর আগের অবস্থায় ফিরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। রাজনৈতিক মদদে সরকারকে ভ্রুকুটি দেখানোর পর্যন্ত ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।

‘যারা ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে,’ প্রধানমন্ত্রী সেই সমস্ত লোককে স্মরণ করিয়ে দেন যে, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-সকল ধর্মের-বর্ণের মানুষের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ বাংলাদেশ লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, জীবনানন্দের বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশ শাহজালাল, শাহ পরান, শাহ মকদুম, খানজাহান আলীর বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ শেখ মুজিবের বাংলাদেশ, সাড়ে ষোল কোটি বাঙালির বাংলাদেশ। এ দেশ সকলের।’

প্রধানমন্ত্রী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিজয় দিবসের প্রাক্কালে তাই আসুন, আবারও আমরা শপথ নেই-আমরা যেন লাখো শহিদের রক্তের ঋণ ভুলে না যাই। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ভূলুণ্ঠিত হতে না দেই।’ (বাসস)

You might also like