ধুমধাম আয়োজনে মাদারীপুরে দুই প্রতিবন্ধীর বিয়ে

১০২

জন্ম থেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মাদারীপুরের শিবচরের পাঁচ্চর ইউনিয়নের গোয়ালকান্দা গ্রামের সুমা আক্তার (২১)। সুমার সাথে পরিচয় হয় বুদ্ধি সম্পন্ন দিনমজুর মোহাম্মদ খালাসীর। এক সময় তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর তাদের এই ভালোবাসা দেখে এলাকাবাসী তাদের বিয়ের গেট সাজিয়ে, প্যান্ডেল নির্মাণ করে ধুমধাম আয়োজন করে দরিদ্র দুই প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীর বিয়ে দিয়েছেন। এলাকাবাসীর এই উদ্যোগে খুশি নব দম্পতি। ভালবাসার স্বীকৃতি পেয়ে তারা কৃতজ্ঞতা সাধারণের মতো জানাতে না পারলেও তাদের চোখেমুখে ছিল আনন্দ উচ্ছ্বাস।

জেলার শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের গোয়ালকান্দা গ্রামের হতদরিদ্র সিরাজ শিকদার ও মমতাজ বেগম দম্পতির ৬ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সুমা আক্তার (২১) জন্ম থেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ছেলের বিয়ের পর থেকে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকায় দিনমজুরী করে বসবাস করছেন। নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাবা মা ও বোনদের ভরন পোষনে সামান্য পরিমানের অর্থই দিতে হিমশিম খান। তাইতো এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সিরাজ শিকদার ৫ মেয়ের বিয়ে আরো আগেই সম্পন্ন করেছেন।

সবচেয়ে ছোট মেয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় খুব চিন্তার মধ্যেই ছিলেন হতদরিদ্র বৃদ্ধ সিরাজ শিকদার ও মমতাজ বেগম।

রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও একই গ্রামের আলী আহম্মদ মৃধাকে মামা বলে ডাকতো সুমা। সুমার নিয়মিত যাতায়াত ছিল মামা আলী আহম্মদের বাড়িতে। এদিকে আলী আহম্মদ মৃধার বাড়িতে থেকে এলাকায় রঙ্গের কাজসহ দিনমজুরী করে ফরিদপুর জেলার সদরপুর থানার বাবুরচর গ্রামের নোয়াব আলী খালাসীর ছেলে মোহাম্মদ খালাসী। ২ ভাই ১ বোনের মধ্যে মোহাম্মদ খালাসী সবার বড়। সে জন্ম থেকেই কিছুটা সহজ সরল অল্প বুদ্ধি সম্পন্ন। এক পায়েও রয়েছে তার সমস্যা। ফলে অনেকটা খুঁড়িয়েই হাটাচলা করেন তিনি। আলী আহম্মদের বাড়িতে সুমার যাতায়াতকালে মোহাম্মদ খালাসীর সাথে সুমার ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়। এটা বুঝতে পেরে পরিবারের মুরব্বীরা সুমা ও মোহাম্মদের কাছে জানতে চায় তারা দুজন দুজনকে বিয়ে করবে কিনা। একথা শুনে দুই প্রতিবন্ধী যুবক যুবতী খুবই খুশি মনে বিয়েতে সম্মতি দেয়।

আলী আহম্মদ মৃধা দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান দেলোয়ার হাওলাদারসহ স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে শুক্রবার সুমাদের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করে। বিয়ে উপলক্ষে নির্মাণ করা হয় গেট, বড় প্যান্ডেল, বাজনা, মাইকসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। ২ শতাধিক অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। কাজী ডেকে বিয়ের কার্য সম্পন্ন করা হয়।

কনের মা মমতাজ বেগম বলেন, এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমার প্রতিবন্ধী মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে এটা অনেক আনন্দের বিষয়।

পাঁচ্চর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, আমরা সকলে সহযোগিতা করতে প্রতিবন্ধী এই দম্পতির বিয়ে দিয়েছি। সবাই দোয়া করবেন ওদের জন্য।

You might also like