পেলেকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি, ছুঁলেন রোনালদোকে

জীবদ্দশায় নিজের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙতে দেখার কথা হয়তো কয়েক বছর আগেও ভাবেননি ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। কিন্তু এরপরই ফুটবল বিশ্বে আবির্ভাব ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির। যারা দুজনই ছাড়িয়ে গেলেন ৭৫৭ গোলের রেকর্ডকে।

চলতি বছরেই পেলের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়েছেন রোনালদো। যার গোলসংখ্যা এখন ৮০১টি। আর মঙ্গলবার রাতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সম্রাটকে দুই থেকে তিনে নামিয়ে দিয়েছেন মেসি। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে জোড়া গোল করে ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি।

সতের বছর আগে বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা মেসি এখন পিএসজির। ফরাসি ক্লাব পিএসজির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন বেলজিয়ান ক্লাব ব্রুগার বিপক্ষে। এ দিন ম্যাচে জোড়া গোল করে টপকে গেলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলেকে। সতের বছর আগে এমন দিনের কথা কী ভেবেছিলেন এই আর্জেন্টাইন তারকা?

মেসির আলো ছড়ানোর ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পেও ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছেন। শুধু মেসি একা রেকর্ড করবেন, এমবাপ্পে করবেন না, তা কি হয়? মেসি যেখানে পেলেকে রেকর্ড বইয়ের এক পাতা থেকে মুছেছেন, আরেক পাতা থেকে এমবাপ্পে মুছেছেন খোদ মেসিকেই।

এ দিন ম্যাচে এমবাপ্পেও করেছেন দুই গোল। দুই গোলের প্রথমটা করে চ্যাম্পিয়ন লিগ ক্যারিয়ারে নিজের ৩০ গোল পেয়ে গেছেন এমবাপ্পে। তার চেয়ে কম বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে আর কেউ ৩০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। এমবাপ্পের আগে এই রেকর্ডটা মেসিরই ছিল। ৩০ গোল করার সময় মেসির বয়স ছিল ২৩ বছর ১৩১ দিন, আজ এমবাপ্পের বয়স ২২ বছর ৩৫২ দিন।

মেসি-এমবাপ্পের তাণ্ডবেই পিএসজি জিতেছে ৪-১ গোলে। ব্রুগার হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোলটা করেছেন মাৎস রিৎস। নেইমারহীন পিএসজিতে মেসি-এমবাপ্পের জুটিটা যেন দিন দিন আরও বেশি মজবুত হচ্ছে।

ম্যাচের দুই মিনিটেই এগিয়ে যায় পিএসজি। লেফটব্যাক নুনো মেন্দেসের এক শট আটকাতে না পেরে এমবাপ্পের সামনে বল দিয়ে দেন ব্রুগার গোলরক্ষক সিমোন মিনিওলেই। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্লেসিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। সাত মিনিটে দি মারিয়ার কাছ থেকে ভেসে আসা এক বলে ভলি করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপ্পে।

এরপরেই শুরু হয় মেসি-ঝলক। ৩৮ মিনিটে এমবাপ্পের কাছ থেকে বল নিয়ে দূরপাল্লার এক শটে মিনিওলেইকে পরাস্ত করেন মেসি। ৬৮ মিনিটে ডাচ ফরোয়ার্ড নোয়া লাংয়ের কাছ থেকে বল পেয়ে ব্যবধান কমান রিৎস।

৭৫ মিনিটে ডিবক্সে মেসিকে ফাউল করা হলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। সেখান থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৪-১ করে ফেলেন মেসি। আর সে গোলেই নিশ্চিত হয়, পেলেকে টপকে গেলেন মেসি।

You might also like