ফিরে দেখা ২০২১, স্বাগতম ২০২২!

মানুষ বড়ই স্মৃতিকাতর। পুরনোকে আঁকড়ে ধরে রাখা মানুষের কেমন যেন একটা চিরাচরিত স্বভাব। তাইতো সময়ের বিবর্তনে যখন নতুন একটি বছর শুরু হয়, তখনই সে হিসেব নিকেশ শুরু করে পুরনো বছর নিয়ে। কি করতে চেয়েছিলাম, আর কিইবা করলাম। কি ভেবেছিলাম, আর তার কতটুকুইবা পূরণ হলো। আর এভাবেই পুরনো দিনের আক্ষেপ, অনুশোচনা ভুলে নতুন বছরকে নিয়ে সাজতে থাকে স্বপ্ন। আর নতুন বছর বা নববর্ষ আসলেই মানুষের মনে অন্যরকম এক উন্মাদনা তৈরি হয়। সেটি হোক বাংলা অথবা ইংরেজি বছর। এভাবেই দিন, মাস পেরিয়ে কালের পরিক্রমায় ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে হাজির হলো আরো একটি বছর। ২০২২ খ্রিস্টাব্দ। শুভ নববর্ষ!

বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য বাংলা সন চালু থাকলেও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদের দাপ্তরিক কাজকর্মগুলোতে বেশিরভাগই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়। আর গ্রেগরিয়ান ও জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১লা জানুয়ারি শুরু হয় ইংরেজি নববর্ষ। যদিও ইংরেজরা উপায়ন্তর না দেখে ১৯ শতকে নিউ ইয়ার উদযাপন শুরু করে। কারণ পৃথিবীর সিংহভাগ দেশেই ততদিনে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি চালু হয়ে যায়। তবে ইংরেজি নববর্ষ পালনে বিধিনিষেধ থাকার কারণে ইসরায়েল, সৌদি আরব, নেপাল, ইরান, আফগানিস্তানসহ অনেক দেশ ইংরেজি নববর্ষ পালন করে না।

বাঙালি বরাবরই কিছুটা অনুকরণপ্রিয়। যার ফলে পশ্চিমা পোশাক, সংস্কৃতি, রীতিনীতি খুব সহসাই রপ্ত করে নেয় তারা। সেভাবেই ইংরেজি নববর্ষ পালনের পশ্চিমা সংস্কৃতিগুলো জেঁকে বসেছে আমাদের সংস্কৃতিতে। থার্টিফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ফোটানো, ডিজে পার্টি, খাওয়া-দাওয়া এ যেন নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। শহর অঞ্চলে এ্রর প্রচলন একটু বেশিই দেখা যায়। যদিও মফস্বল থেকে গ্রাম পর্যন্ত সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে এ সংস্কৃতি।

নতুন বছরকে এত আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপনের মধ্যেও আমরা ফিরে তাকাই পুরনো বছরের দিকে। ফিরে দেখি আমাদের ব্যক্তিগত, জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির দিকে। ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী। আমাদের মাতৃভূমি, প্রিয় স্বদেশ ৫০টি বছর পার করে ফেলেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ত্রিশ লাখ শহিদ আর ২ লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে যে সোনার বাংলা আমরা পেয়েছি, এখন তা তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বিশ্ব দরবারে বীরদর্পে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ এখন যে অর্থনৈতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশের তালিকায় যুক্ত হবে। ২০২১ সালে আমাদের এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটে।

বিগত ২ বছর ধরে আমরা অতিক্রম করছি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির। করোনা মহামারি আমাদের জীবন, অর্থনীতি সবকিছু দুর্বিষহ করে তুলেছে। এ থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর সারকার বাংলাদেশের মানুষকে করোনা থেকে বাঁচানোর জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছে। ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি দেশে প্রথম করোনা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। এ ছাড়া, ২০২১ সালে দেশে আরো কিছু আলোচিত ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ডা. মুরাদ হাসান বিতর্ক, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের বরখাস্তের ঘটনা, চিত্রনায়িকা পরীমণি ইস্যুসহ আরো অনেক ঘটনা।

অন্যদিকে, বিশ্ব রাজনীতিতে ২০২১ সালে ঘটে কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণ, তালেবানের ক্ষমতা দখল, মিয়ানমারে সেনা অভুত্থান, গাজায় ইসরায়েলি হামলাসহ বেশ কিছু আলোচিত ঘটনা। বছরের শুরুতে করোনার ডেল্টা ধরনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো বিশ্ব। বছরের শেষদিকেও করোনার ওমিক্রন ধরনে টালমাটাল হয়ে পড়েছে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

সবকিছু পিছনে ফেলে ২০২২ সালে আমরা এগিয়ে যাব সামনের দিকে। পুরনো বছরের ব্যর্থতা ভুলে ভরে উঠুক আমাদের অর্জনের ডালি নতুন বছরকে নিয়ে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

প্রাণ কিশোর

নিউজরুম এডিটর