ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া পরিবার এখন কুড়িগ্রামে

৩৩৩

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ঢাকায় ওভার ব্রীজে নিচে আশ্রয় নেয়া অসুস্থ্য মা, তার স্বামী ও সন্তানদের অবশেষে ঠাঁই হলো কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নে। জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টায় পরিবারটিকে সদর ইউএনও আমিন আল পারভেজ, এনডিসি সুদীপ্ত কুমার সিংহ এবং কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি এড. আহসান হাবীব নীলু তাদেরকে পাঁচগাছিতে নিয়ে যান।

এর আগে রাতের কোচে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন ঢাকাস্থ কুড়িগ্রাম সমিতির মহাসচিব সাদুল আবেদীন ডলার। সকাল সাড়ে ৭টায় পরিবারটি কুড়িগ্রাম শহরে পৌঁছলে তাদেরকে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে নিয়ে আসা হয়। এখানে নিজের জীবনের কথা শোনান ফরিদা বেগম (৪০) ও তার স্বামী আনছার আলী (৬০)।

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর মৌজার মরাকাটি গ্রামে বাড়ি ছিল ফরিদার স্বামী আনছার আলীর। ছিল ২ একর ধানী জমি। দুধের ব্যবসা করে ভালই চলছিল পরিবারটি। চরের মধ্যে প্রতিদিন ২ মণ করে দুধ সংগ্রহ করে ১৫ কি.মি. সাইকেল মাড়িয়ে কুড়িগ্রাম শহরের হোটেল গুলোতে দুধ সরবরাহ করত সে। এভাবেই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু ব্রহ্মপূত্র নদের করাল গ্রাসে ২০১৬ সালে এক মাসের মধ্যে বাড়ী ঘর, আবাদি জমি সব নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। গৃহহীন হয়ে পরে গৃহস্ত পরিবারটি। তাদের সাথে দেড়শ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে ফেলে। শেষে আশ্রয় মেলে ইসলামপুরে জ্যাঠাত ভাইয়ের গোয়াল ঘরে। সেখানে একমাস থাকার পর জীবন বাঁচানোর তাগিদে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কাজের সন্ধানে আনছার আলী ঢাকায় চলে আসে।

এখানে এসে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ২মেয়ে ও এক ছেলেসহ শেষে আশ্রয় নেয় কলাবাগান ওভার ব্রীজের নীচে পলিথিন বিছিয়ে। ধানমন্ডী ক্রীড়া চক্র ক্লাবে মাঠের পাতা কুড়ার কাজ করে দিনে আয় হয় দুশো থেকে আড়াইশ টাকা। সেই অর্থেই চলছিল মানবেতর জীবন যাপন। মাঝখানে কাজটাও বন্ধ হযে যায়। এসময় প্রায় না খেয়ে থাকতে হচ্ছিল পরিবারটিকে। সন্তানদের দু:খ-কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ্য শরীর নিয়ে নিজেই ভিক্ষাবৃত্তি করতে বেরিয়ে পড়েন ফরিদা বেগম।

ঘটনার দিন দু’সন্তানকে নিয়ে কলাবাগান থেকে ল্যাব এইডের দিকে ভিক্ষা করতে বের হন। অসুস্থ্য শরীর নিয়ে বের হওয়ার ফলে ল্যাব এইডের কাছে অসুস্থ্য হয়ে ফুটপাতেই পড়ে যান তিনি। এরপর তার ছোট ছেলে সাড়ে তিন বছর বয়সের ফরিদুল ইসলাম বোতলে করে পানি এনে মায়ের মাথায় ঢালেন। এই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেলে কুড়িগ্রামের এই পরিবারটির ভরন-পোষনের দায়িত্ব নেন জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন। সন্তানসহ পুরো পরিবারটি কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে আসলে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র দেন সিভিল সার্জন ডা: এসএম আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম।

এ সময় প্রাথমিকভাবে পরিবারটির খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল, লবনসহ সমস্ত উপকরণ সরবরাহ করেন কুড়িগ্রাম রেল ও যোগাযোগ উন্নয়ন গণকমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম ।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন এ পরিবারটিকে অস্থায়ী ভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিশ্চিত করা হয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা। জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীনের নির্দেশে তাঁদের তিন সন্তানকে স্কুলে ভর্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি

You might also like