বসুরহাটে ফের ১৪৪ ধারা জারি

১১১

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বসুরহাটে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

হতাহতের ঘটনায় থমথমে পুরো এলাকা। গতকাল বিকেল ও রাতে দুই দফা সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রসহ ২৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক মীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা আ.লীগের দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বুধবার (১০ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বসুরহাট পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ আদেশ চলাকালে পৌর এলাকায় ব্যক্তি, সংগঠন, রাজনৈতিক দল, গণজমায়েত, সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা কিংবা যে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৌর শহরে ৪ জনের বেশি লোক জমায়েত হতে পারবে না।

এর আগে সোমবার বিকেলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে মানববন্ধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আর বিকেলে বসুরহাটের রূপালী চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ও তার সমর্থকরা।

সমাবেশ চলাকালে আবদুল কাদের মির্জার সমর্থকরা তাদের ধাওয়া করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় দোকানপাট ও কয়েকটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়।

পরে পুলিশ ও র‌্যাব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য এবং দুই পক্ষের অন্তত ২০জন আহত হন।

পরে রাত ১০টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় আলাউদ্দিন নামে একজন নিহত হন। ১৩ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হন অন্তত ৩০ জন। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

You might also like