‘বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ’

উজবেকিস্তানে টিপু মুনশি

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা বৃদ্ধি এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে চালু হওয়া স্পেশাল ইকনোমিক জোনে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি । উজবেকিস্তান সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উজবেকিস্তানসহ Commonwealth of Independent States (সিআইএস)ভুক্ত আজারবাইজান, বেলারুশ, কাজাখাস্তান, কিরগিস্তান, আরমেনিয়া, মলদোভা, রাশিয়া এবং তাজিকিস্তানে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ । বিদ্যমান বাণিজ্য বাধা দূর হলে রপ্তানি অনেকগুণ বাড়বে।
উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে উজবেকিস্তান টেক্সটাইল এন্ড গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশন আয়োজিত ‘উজবেকিস্তান টেক্সটাইল কনফারেন্স এবং ৫ দিনব্যাপী গ্লোবাল টেক্সটাইল ডে’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিগণ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থান রয়েছে বাংলাদেশ এবং এর পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছে। দেশে একের পর এক গ্রিন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে।
তিনি বলেন, উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ঔষধের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আশানুরূপ হচ্ছেনা। এ পরিস্থিতি উত্তরণে উজবেকিস্তানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিআইএসভুক্ত দেশসমুহ এবং ইউরেশিয়ান ইকনোমিক কমিশনের সাথে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা ও বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে বলে মন্ত্রী এ সময় জানান।
এর আগে সোমবার উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ-এর সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে টিপু মুনশি বলেন, উজবেকিস্তান বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র। বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রদত্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক দেশ বিনিয়োগ শুরু করেছে। সরকারের ইতিবাচক নীতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে।
উজবেকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইলিয়রগানিয়েভ বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যবৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাতপণ্য, পাট ও পাটজাতপণ্য এবং ঔষধ আমদানি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় উজবেকিস্তানের বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং কৃষি বিষয়ক উপমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী উজবেকিস্তনের চেম্বার অভ্ কমার্স আয়োজিত দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য ফোরামের রাউন্ড টেবিল বৈঠকে যোগদান করেন।