বিশ্বে হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ,  ১০ দিনে আক্রান্ত দ্বিগুণ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। ১ থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক গড় সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ২১ লাখের বেশি। এ ছাড়া গত ১০ দিনে এই সংক্রমণ দ্বিগুণ হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল শনিবার এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে এএফপি।

করোনাভাইরাসের সার্বক্ষণিক তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের পরিসংখ্যান অনুসারে, করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রন শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই ইউরোপে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু ধরনটি ছড়িয়ে পড়ার পর সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। এরপর গত বছরের ডিসেম্বরের ২৩ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত গড় সংক্রমণ ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের শুরুতে এসে সেই সংক্রমণ আরও বাড়ে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে গড় সংক্রমণ ছিল ২১ লাখ ৬ হাজার ১১৮।

এএফপির পরিসংখ্যানে আরেকটি তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে অমিক্রন শনাক্ত হয়। ওই সময়ের তুলনায় বর্তমানে সংক্রমণ ২৭০ শতাংশ বেশি। তবে মৃত্যুর হার কম। বলা হচ্ছে, ২০২০ সালের অক্টোবরে গড়ে যে পরিমাণ মানুষ মারা গিয়েছিল করোনায়, তার থেকেও মৃত্যুর হার কম এখন। চলতি বছরের প্রথম এক সপ্তাহে গড় মৃত্যু ৬ হাজার ২৩৭।

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মত, করোনার নতুন ধরন অমিক্রনে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য ধরনের আক্রান্ত ব্যক্তির চেয়ে কম অসুস্থ হন। তবে আরেকটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরপরও যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাপের মুখে পড়তে পারে।

করোনার নতুন এই ঢেউয়ে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোয়। গত এক সপ্তাহে এই দুই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মোট সংক্রমণের ৪৯ শতাংশই ইউরোপে। আর উত্তর আমেরিকায় সংক্রমণ ৩৩ শতাংশ। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রমণের যেমন রেকর্ড হয়েছে, তেমনি ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্যেও সংক্রমণ রেকর্ড হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ডকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে এই ঢেউয়ে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

এরপরও সংক্রমণ বাড়ছে এসব অঞ্চলে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইউরোপের দেশগুলোয় সংক্রমণ বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংক্রমণ বেড়েছে ৭৬ শতাংশ। একই সময়ের ব্যবধানে ওশেনিয়ায় সংক্রমণ বেড়েছে ২২৪, লাতিন ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সংক্রমণ বেড়েছে ১৪৮, মধ্যপ্রাচ্যে সংক্রমণ বেড়েছে ১১৬ এবং এশিয়ায় সংক্রমণ বেড়েছে ১৪৫ শতাংশ। এর বিপরীতে আফ্রিকায় সংক্রমণ স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু অন্য এলাকাগুলোয় যতসংখ্যক সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে, তা ২০২০ সালে মহামারি ঘোষণার পর থেকে সবচেয়ে বেশি।

You might also like