ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবায় দুটি হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু

২৬৭

রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবায় তৈরি করা ২০ শয্যা বিশিষ্ট দুটি অত্যাধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার ২টার সময় ভাসানচর অবস্থান করার পর থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত ৪২জন রোহিঙ্গা তাদের স্বাভাবিক জ্বর ও সর্ধি নিয়ে এই দুটি হাসপাতাল-১ এর জরুরী বিভাগ থেকে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ।

শনিবার সকালে ১৩ নং ক্লাস্টারের ৭নং হাউজে বসবাস করা মো: আনাস (৫৬) নামে একজন মাথা ব্যাথা নিয়ে হাসপাতাল-১ এ চিকিৎসা নিতে আসেন। । চিকিৎসা নিতে আসা আনাস হাসপাতালের উন্নত পরিবেশ দেখে অনেক খুশি বলে জানান। আলাপ কালে আনাস আরো জানান, কুতুপালং থেকে ভাসানচরের পরিবেশ অনেক ভালো। এখানে খোলামেলা পরিবশে তাদের অনেক ভালো লাগে।

আনাসের মত ৩নং ক্লাস্টারের ১০ নং হাউজে বসবাস করা জানিয়া (১৯), ২০ নং ক্লাস্টারের ১০নং হাউজের মো: আলম (৪৫) ও ১৪নং ক্লাস্টারের ৭ নং হাউজের জাহানারা (২৪) আবহাওয়া পরিবর্তন জনীত রোগে নতুন এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন।

হাসপাতাল দুটির দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মাহতাব উদ্দিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছি। বর্তমানে ভাসানচরের হাসপাতালের অস্থায়ী দায়িত্ব পালন করছি। রোহিঙ্গাদের জন্য যে দুটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে বা যেসব যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে তাতে জটিল অপারেশন সফলতার সাথে করা যাবে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারী ও সিজারের খুব ভালো ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

২০ শয্যার এই দুটি হাসপাতালে সরকারী একজন, এনজিও এর দুইজনসহ ৩জন মেডিকেল অফিসার কর্মরত রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী ৬জনসহ বিভিন্ন পদে ১৪জন দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান ভাসানচরের হাসপাতালের দায়িত্বরত অফিস সহকারী আকরাম হোসেন ।

এছাড়াও রয়েছে ৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক যাতে রোহিঙ্গাদের দেওয়া হবে প্রাথমিক চিকিৎসা। এসব ক্লিনিক থেকে বিনা মূল্যে তারা পাবে ৩০ প্রকারে ঔষধ।

এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার নাজিম উদ্দিন জানান, ভাসানচরে এই দুটি হাসপাতালের কার্যক্রম শুক্রবার থেকে চালু করা হয়েছে। এখানে সরকারী ও এনজিওদের মেডিকেল অফিসারগন দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া যে ৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মান করা হয়েছে তাতে অছিরেই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

শুক্রবার সকালে নৌ বাহিনীর তিনটি জাহাজে চট্রগ্রাম থেকে ১ হাজার ৬শত ৪২ জন রোহিঙ্গার একটি দল ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়ে দুপুরে এসে পোছাই তারা। প্রথম ধাপে নারী-পুরুষ, শিশুসহ ১৬৪২ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে পৌঁছেছে । স্থানীয় সূত্রে জানা যায় এর মধ্যে শিশু রয়েছে ৮১০জন, পুরুষ ৩৬৮জন, নারী ৪৬৪জন রয়েছে ।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ভাসান চরে আসা সকল রোহিঙ্গাদের প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তার পর ওয়ার হাউজে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা রোহিঙ্গাদের ব্রিফিং করেন। ব্রিফিং শেষে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রস্তুত রাখা ৭,৮,৯,১০,১৪ ও ২০ নম্বর ক্লাষ্টারে তাদেরকে রাখা হয়।

You might also like