মাদক পাচার বন্ধে প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে দেশে মাদকের পাচার বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘এখনও কোন কোন পয়েন্ট দিয়ে দেশে মাদক আসছে তা প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে এই মাদকগুলো আর আসতে না পারে।’

প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা গতকাল (বুধবার) জাতীয় সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের এক সম্পূরক পশ্নের উত্তরে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের ফলে মাদক পাচার আগের চাইতে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এই অভিযান অব্যাহত রাখতে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুণর্ব্যক্ত করেন।

ড.শিরীন শারমীন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন,‘একটা সমস্যা হচ্ছে যখন আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করি তখন আরেকটার উৎপত্তি ঘটে। সেটাকে আবার নিয়ন্ত্রণ করতে করতে আবার আরেকটার উৎপত্তি ঘটে। কাজেই এ কারণেই এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মাদক একটা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে কিভাবে মাদক ঢোকে, দেশের অভ্যন্তরে কেউ মাদক প্রস্তুত করে কি-না,মাদক যারা সেবন করে অথবা বিক্রি করে বা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘চলমান অভিযানের কারণে মাদক অবশ্যই কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং এটা অব্যাহত থাকবে।’

তরিকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে রেষারেষী করাটা উচিত নয়। যারা সত্যিকারভাবে ইসলামে বিশ্বাস করেন তাঁরা যার যার ধর্ম তাঁকে পালন করার সুযোগ করে দেবেন।’

তিনি সূরা কাফিরুনের আয়াত ‘লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদ্বীন’ উল্লেখ করে বলেন, যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে- এটা ইসলামেরই শিক্ষা। একজন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী যেমন স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবে তেমনি ইসলামের অনুসারীরাও নিজের নিজের মত করে ধর্ম-কর্ম পালন করতে পারবেন।

শেখ হাসিনা বলেন,ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম। তবে, এই ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে গুটিকয়েক লোক এই ধর্মকে সকলের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে । জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,তাঁর সরকার সবসময়ই এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এসেছে এবং এই ধর্মের নামে যাতে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি না হয় সেজন্য দেশের ছাত্র-ছাত্রী, যুব সমাজ এবং আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে এ বিষয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ভাল ফলও লাভ করছে।

অনলাইন নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি