মানবকল্যাণের বারতা ছড়িয়ে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ

পহেলা বৈশাখে যোগ হল আরো একটি নতুন বছর। বাংলা নববর্ষ, ১৪২৫ বরণে মেতে উঠেছিল দেশবাসী। বরাবরের মতো এবারো রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানই ছিলো বর্ষবরণের প্রধান আয়োজন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই গান, কবিতা আর সুরের মূর্ছনায় পুরো রমনার বটমূলে বেজে ওঠে নতুনের আবাহন। দেশীয় মানসের সাথে বিশ্ব মানসের সহজ যোগাযোগের মধ্য দিয়ে মানবকল্যাণ সৃষ্টির আহ্বান ধ্বনিত হয় ধ্র“পদী এই আয়োজনে।
সূর্যের আভা ছড়াতে না ছড়াতেই বাঁশিতে আহীরভাঁয়রো রাগে নতুন বছরের নিমন্ত্রণ জানিয়ে শুরু হয় ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন। গানের সুরে সুরে নতুন বছরের প্রথম সূর্য যখন রক্তিম হয়ে উঠে তখন রমনার পুরো উদ্যান ভরে উঠেছে লাল সাদা আর নানান রঙের বর্ণচ্ছটায়। রাজধানীতে বাংলা ১৪২৫ কে বরণ করে নেবার মূল আয়োজন ছিল এই রমনা বটমূলে, ছায়ানটের ধ্র“পদী গানে।
সুরানুরাগীদের প্রভাতী গানে সবার প্রাণে ছড়িয়ে পড়ে মুগ্ধতা। বাংলা আর বাঙালিয়ানা ছিলো সবার সবটা জুড়ে। সব পথ যেন মিশে গিয়েছিলো রমনায়। কখনও একক আবার কখনও সম্মেলক গানে, মাটি, মানুষ আর প্রকৃতির কথাই ধ্বনিত হয়।
১৯৬৭ সাল থেকে চলে আসা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয় সমাজের সর্বস্তরের, সব বয়সের মানুষ। নতুন বছরের সিগ্ধ সকালে ছায়ানটের ধ্র“পদী এই আয়োজনে না এলে যেন বাঙ্গলীর প্রাণের সঞ্চার হয় না।
প্রভাতী আয়োজনে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছায়ানটের সভাপতি সন্জিদা খাতুন বলেন, দেশীয় মানসের সাথে বিশ্ব মানসের সহজ যোগেই আসবে মানবকল্যাণ। সেই সত্য আর সুন্দরের পথে সকলের অগ্রযাত্রা ধরের রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
সকল কুসংস্কার এবং কূপমন্ডুকতাকে পিছনে ফেলে প্রতিবছরই বাঙালিকে সাহস ও শক্তি যুগিয়ে চলেছে ছায়ানটের এই আয়োজন।

নিউজ ডেস্ক, বিজয় টিভি