মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: রাবাব ফাতিমা

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেছেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার নীতিসমূহের প্রতি গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মানবাধিকার কাউন্সিলের রিপোর্টের ওপর আয়োজিত এক সাধারণ বিতর্কের অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

শনিবার (৩০ অক্টোবর) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে সর্বোচ্চ প্রাধিকারভূক্ত এজেন্ডায় রাখা এবং কাউন্সিলের ৪৭তম সেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ক একটি রেজুলেশন গ্রহণ করার জন্য মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বপ্রণোদিত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত এবং মিয়ানমারে তাদের নিজভূমিকে বৈষম্য ও নিপীড়নমুক্ত করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো অব্যাহত রাখতে কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানান।

মানবাধিকার কাউন্সিল গৃহীত রেজুলেশনে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ন্যায়সঙ্গত, সাশ্রয়ী, সময়োপযোগী এবং বৈশ্বিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে উল্লেখ করে রেজুলেশনটিকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

কোভিড-১৯ এর আর্থ-সামাজিক প্রভাব মোকাবিলায় পদক্ষেপ গ্রহণে কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনে ন্যায়সঙ্গত ও সময়োপযোগী প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না মর্মে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। এ প্রসঙ্গে অভিবাসীদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ ও তাদের কোভিড ভ্যাক্সিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা জলবায়ুর নেতিবাচক পরিবর্তন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত রেজুলেশন গ্রহণকে স্বাগত জানান। জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির দিকে বাড়তি মনোযোগ দিতে কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি, যা বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

নারী ও শিশুদের উওপর কোভিডের প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন যে অনেক উন্নয়নশীল দেশে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ঝরে পড়ার হার বেড়েছে, এবং মেয়েরা বাল্যবিবাহ, সহিংসতা ও নির্যাতনের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মানবাধিকার কাউন্সিলের সভাপতি রাষ্ট্রদূত নাজহাত শামীম খান এ রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।

You might also like