মিঠুনের হাফসেঞ্চুরিতে ২৩৩ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাশরাফি মুর্তজা টস জিতে সিদ্ধান্ত নেন ব্যাট করার। ব্যাট করতে নেমেই বিপদের মুখে পড়ে বাংলাদেশ।  সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা বড় কোনও অবদান রাখতে না পরলেও মিঠুনের ব্যাটে স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশের। ৪৮.৫ ওভারে ২৩২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

৮.২ ওভারের মধ্যে তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকারকে মাঠছাড়া করেন ট্রেন্ট বোল্ট ও ম্যাট হেনরি। ৪২ রানে ৪ উইকেট হারানো দলে হাল ধরেছিলেন মিঠুন। অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বড় ধরনের সহায়তা না পেলেও নিজের দায়িত্ব ঠিক পালন করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার সঙ্গে ইনিংস সেরা ৮৪ রানের জুটি গড়ে আউট হন সাইফউদ্দিন। ৫৮ বলে ৩ চারে ৪১ রান করে মিচেল স্যান্টনারের শিকার হন তিনি। এই জুটিতে দুইশ পার করে সফরকারীরা।

প্রথম বলে হেনরিকে চার মেরে শুরুটাা ভালোই করেছিলেন তামিম। কিন্তু টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। দ্বিতীয় ওভারে তিনি বিদায় নেন মাত্র ৫ রান করে। বোল্টের আউটসুইংয়ে পেছনে টম ল্যাথামকে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য সরকারের সঙ্গে সুবিধা করতে পারেননি লিটন। ৮ বল খেলে মাত্র ১ রান করে পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে হেনরির কাছে বোল্ড হন এই ওপেনার। ১৯ রানে ২ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

সাইফউদ্দিনের ব্যাট দারুন অবদান রেখেছে মুশফিক ও সৌম্য সরকারের জুটিতে শুরুর এই ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে উঠছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তিন বলের ব্যবধানে বিদায় নেন দুজন। অষ্টম ওভারের শেষ বলে বোল্টের কাছে বোল্ড হন মুশফিক (৫)। ২৩ রানের জুটি ভাঙার পর আর কোনও রান যোগ না হতেই চতুর্থ উইকেট হারায় সফরকারীরা। হেনরির শর্ট বল হুক করতে গিয়ে তার হাতেই ক্যাচ দেন সৌম্য। ২২ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৩০ রান করেন তিনি।

মিঠুনকে নিয়ে মাহমুদউল্লার জুটিও যায়নি বেশি দূর, যোগ হয় মাত্র ২৯ রান। ২৯ বলে ১৩ রান করে লোকি ফার্গুসনের শিকার হন মাহমুদউল্লাহ।

এরপর মাঠে নামেন সাব্বির। মাশরাফির চাওয়াতে নিষেধাজ্ঞা কমানোয় দলে জায়গা হয় তারা। কিন্তু ফেরাটা স্মরণীয় করতে পারেননি তিনি। মাত্র ১৩ রান করে আউট হন সাব্বির। ২৩তম ওভারে মিচেল স্যান্টনারের বলে স্টাম্পিং হন তিনি। তার ২০ বলের ইনিংসে ছিল দুটি চার। সাব্বিরের বিদায়ের পর ক্রিজে নেমে টানা দুটি বাউন্ডারি মারেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিঠুনের সঙ্গে ৩৭ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন তিনি। স্যান্টনারের বলে সুইপ করতে গিয়ে জিমি নিশামের ক্যাচ হন মিরাজ। তার ২৭ বলের ইনিংসে ছিল ৩ চার ও ১ ছয়।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো বাংলাদেশ স্বস্তিতে ফেরে সাইফউদ্দিন ও মিঠুনের জুটিতে। সাইফ হাফসেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ হলেও তার ৪১ রান করে দারনি অবদান রাখে দলের জন্য। ৭৩ বলে তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি করা মিঠুন ৪৮তম ওভারে বিদায় নেন লোকি ফার্গুসনের কাছে বোল্ড হয়ে। ৯০ বলে ৫ চারে ৬২ রান করেন তিনি। মোস্তাফিজুর কোন রান না করে বোল্ড হন বোল্টের কাছে। সমাপ্তি ঘটে বাংলাদেশের ইনিংসের।

২৩৩ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করছে স্বাগতিকরা।

 

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি