শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান বাংলাদেশের

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেছেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। শান্তিরক্ষায় নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন শান্তিতে নারীর ভূমিকা সামগ্রিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করা।

আজ (শনিবার) ‘সামনে থেকে নেতৃত্বদান: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় নারী নেতৃত্ব’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ইভেন্টে তিনি একথা বলেন । নিরাপত্তা পরিষদের ল্যান্ডমার্ক রেজ্যুলেশন-১৩২৫ এর ২০তম বার্ষিকী স্মরণে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ, কানাডা ও যুক্তরাজ্য মিশন।

শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশগুলোতে বিশেষ করে ‘যৌন ও লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা দমন’, পারষ্পরিক আস্থার সম্পর্ক তৈরি এবং ঐ সকল সমাজের নারীদের দেশগঠনের কাজে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে নারী শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদানের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ায় এখনও নারীর অংশগ্রহণ অপ্রতুল।

শান্তিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে জাতিসংঘ ও সদস্য রাষ্ট্রসমূহের চলমান প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান ফাতিমা। ‘শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারী’ শীর্ষক নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক রেজ্যুলেশন-২৫৩৮ এর উদাহরণ টেনে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান, মিশনসমূহে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (ডব্লিউপিএস) এজেন্ডার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। জাতীয় পর্যায়ে ডব্লিউপিএস এজেন্ডা বাস্তবায়নার্থে গতিশীল প্রচেষ্টা গ্রহণ এবং কান্ট্রি অফিসসমূহসহ জাতিসংঘ ব্যবস্থাপনায় আভ্যন্তরীণভাবে কার্যকরের আহ্বান জানান তিনি।

ইভেন্টে আরো বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ পিয়েরে ল্যাক্রোস, কানাডার প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল জোনাথন ভেঞ্চ, যুক্তরাজ্য মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জোনাথন অ্যালেন। এছাড়া পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন মিনুরসো এর ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার, দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত মিশন ইউনিমিস এর পুলিশ কমিশনার ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নিয়োজিত মিনুসকা মিশন এর রিজিওনাল কমান্ডার বক্তব্য রাখেন।

কূটনীতিক মিশন, সামরিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সুশীল সমাজের অংশীজন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, নারী শান্তিরক্ষীসহ বাংলাদেশ সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান রেখে চলেছে।

You might also like