শিক্ষককে লাঞ্চিত করার অভিযোগে ইউএনওর প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ

১৮২

হাতিয়া দ্বীপ সরকারী কলেজের এক শিক্ষককে লাঞ্চিত করার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবী করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা। বুধবার সকালে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার উপজেলা পরিষদ চত্তরে এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, একটি জন্ম সনদের আবেদনে সত্যায়ীত করার অপরাধে হাতিয়া দ্বীপ সরকারী কলেজের প্রভাষক আজগর হোসেনকে গত মঙ্গলবার বিকালে নিজ অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে।

এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষককে একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে কলেজের উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহম্মেদ গিয়ে কলেজের শিক্ষক আজগর হোসেনকে ইউএনওর কার্যালয় থেকে ছাড়িয়ে আনেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কলেজেরে ছাত্র-ছাত্রীরা রাতেই সোশাল মিডিয়াতে ইউএনওর বিরুদ্বে বিভিন্ন পোষ্ট দিতে থাকেন ।

এদিকে বুধবার সকালে এই বিষয়ে হাতিয়া দ্বীপ সরকারী কলেজের সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা অবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেনর প্রত্যাহার দাবী করেন। এসময় ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া ও বক্তব্য রাখেন ইউএনওর হাতে লাঞ্চিত হওয়া আরো এক ভুক্তভোগী একটি আবাসিক হোটেলের বয় আজিম। বক্তারা তাদের দাবী মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচী দেওয়ার ঘোষনা দেন।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে লাঞ্চিত কলেজ প্রভাষক আজগর হোসেন বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমার এলাকার একটি ছেলে এসে আমার কাছ থেকে একটি জন্ম সনদের আবেদন সত্যায়িত করে নেয়। তাতে বয়সের একটি গরমিল ছিল বলে পরে আমি জানতে পারি। এই বিষয়ে গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন আমাকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নেন। সত্যায়িত করার বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে বলার পর তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্ধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি তাঁর অফিসের কর্তব্যরত আনসারকে দিয়ে আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্ঠা করেন।

সবশেষে তিনি আমাকে দিয়ে জোর পূর্বক আমার ভুলের জন্য একটি লিখিত কাগজ নিয়ে নেন। খবর পেয়ে আমার কলেজের উপাধক্ষ্য তোফায়েল আহম্মেদ গিয়ে আমাকে তাঁর কার্যালয় থেকে ছাড়িয়ে আনেন। এই ঘটনায় আমি খুবই অপমানিত হয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, কলেজের শিক্ষক আজগর হোসেন একটি ভুয়া জন্মসনদের আবেদনে সত্যায়িত করেছে। এই বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে আরো উত্তেজিত হয়ে যায়। পরে তাঁর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে আমি ডেকে এনে বিষয়টি দেখায়। সেও বিষয়টি দেখে জন্ম সনদের আবেদনে সত্যায়িত করা টা ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। পরে তারা চলে যান। এখানে কাউকে লাঞ্চিত করা হয়নি।

এদিকে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন চলাকালীন বিপুল সংখ্যক পুলিশ রাস্তায় উপস্থিত ছিলেন। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

You might also like