শুভ জন্মদিন, কবির বকুল

১৫৫

আনতারা রাইসা: গান মনের খোরাক যোগায়।  এই গান গেয়ে জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি সবই পান শিল্পীরা। কিন্তু সেই গানের সুন্দর সুন্দর কথা যারা লেখেন, তারা থেকে যান আড়ালে। কিন্তু আড়ালে নেই কবির বকুল। নিজ প্রতিভায় তিনি সমগ্র দেশব্যাপী সুপরিচিত।

নব্বই শতকের জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলসের ‘ কেন এই নিঃসঙ্গতা’ গানটি আমরা যারা নব্বই শতকে বড় হয়েছি তাদের সবার কাছে খুবই জনপ্রিয়। এর অসাধারণ গানের কথা আমাদের এখনও মন ছুঁয়ে যায়। গানটি লিখেছিলেন কবির বকুল। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে গান ও কবিতা লেখার সাথে জড়িত।১৯৮৮ সালে তিনি প্রথম ১৩টি গান লিখে শিল্পী তপন চৌধুরীকে দেন । সেখান থেকে দুটি গান দুটি অ্যালবামে আসে । প্রথম গান ছিল ‘কাল সারা রাত তোমারই কাকন যেন মনে মনে রিনিঝিনি বেজেছে’ যার গায়ক ছিলেন শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু । দ্বিতীয় গানটি ছিলো ‘পথে যেতে যেতে খুঁজেছি তোমায়’ যার গায়ক ছিলেন শিল্পী নাসিম আলী খান ।  তার হাত দিয়েই রচিত হয়েছে ‘ ব্যস্ততা আমাকে দেয়না অবসর’, ‘আমার এক নয়ন তো দেখেনা রে’, ‘বাজে রে বাজে ঢোল আর ঢাক’ বিখ্যাত ব্যান্ডের গানগুলি। শুধুই এ্যালবামের গানের সাথেই তিনি থেমে থাকেন নি। লিখেছেন চলচ্চিত্রের গান ও।

১৯৯৪ সালে ‘অগ্নি সন্তান’ চলচ্চিত্রে প্রথম গান লেখেন তিনি। এ গানের জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির পুরস্কার শ্রেষ্ঠ গীতিকারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তার লেখা চলচ্চিত্রের গানগুলি সবসময়েই ছিল একটু অন্যরকম। চলচ্চিত্রের গতানুগতিক গানের ধারাকে ভেঙে তিনি তার হাতের জাদুতে শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন কিছু সুন্দর কথার গান । এজন্যই  যায় দিন যায় একাকী, কেউ প্রেম করে কেউ প্রেমে পড়ে ,আমার মাঝে নেই এখন আমি , দুঃখটাকে দিলাম ছুটি, আসবার কালে আসলাম একা এই গানগুলি এত বছর পর ও আমাদের প্লে লিস্টে জায়গা পায়। এছাড়াও তার আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে , আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে, প্রেমী ও প্রেমী, আমি নিঃস্ব হয়ে যাব জানো না, প্রেমে পড়েছে মন প্রেমে পড়েছে , দিল দিল দিল। তিনি তার গানের কথা দিয়ে বারবার ছুঁয়ে দিয়েছেন দর্শকদের মন। তাই নব্বই শতক ছাড়িয়ে তার লেখা গানের জনপ্রিয়তা এখনও আমরা দেখতে পাই।

এখন পর্যন্ত আট শতাধিক ছায়াছবির গান লিখেছেন কবির বকুল। সবমিলিয়ে তার লেখা গানের সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও বেশি। কাজ করেছেন অনেক বিখ্যাত সুরকার ও শিল্পীদের সাথে।

সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৮, ২০০৯, ২০১০ এবং ২০১৩ সালে মোট চার বার ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ জেতেন কবির বকুল। ১৯৯৮, ২০০৬ এবং ২০১৩ সালে পান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার। এছাড়া ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রযোজক সমিতি পুরস্কার, ২০০৪ সালে সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড, ২০০৯ সালে বিনোদন বিচিত্রা পুরস্কার এবং ২০১০ সালে চ্যানেল এস(যুক্তরাজ্য) অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ২০১৪ সালে রোটারি ক্লাব, চাঁদপুর তাকে আজীবন সম্মাননায়ও ভূষিত করে।

কবির বকুলের আরও একটি বড় পরিচয় আছে। তিনি একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক। ১৯৯৩ সালে দৈনিক ভোরের কাগজে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে তিনি প্রথম আলোতে কর্মরত ছিলেন।

কবির বকুল ১৯৬৬ সালের ২১ নভেম্বর চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন । ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি বিয়ে করেছেন সংগীত শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী। তাদের দুই মেয়ে প্রেরণা, প্রতীক্ষা ও ছেলে প্রচ্ছদ।

আজ এই গুণী গীতিকারের জন্মদিন। তাকে জানাই শুভেচ্ছা।

নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি

You might also like