শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত : তথ্যমন্ত্রী

৫৩

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের যত অর্জন সবকিছু সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নাম। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র স্বাধীনতা নেতৃত্বদানকারী সংগঠন নয়। বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এদেশের সকল অর্জন হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর আমরা কয়েকদিন পর আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করব।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করছি। এরই মধ্যে গত পরশু দিন রাতে এই স্বাধীনতার ৫০ বছর পূতির পূর্বক্ষনে আরেকটি অর্জন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। সেটি হল বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন আর বাংলাদেশে দরিদ্র দেশ নয় বলে জানান তিনি।

আজ রবিবার দুপুরে নওগাঁর আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সম্মেলনে আত্রাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নরেন্দ্র নাথ দত্তের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্র আওয়ামীলী গের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা: রোকেয়া সুলতানা, সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল ও ব্যারিস্টার নিজামউদ্দিন জলিল জন, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ।

‘ বিএনপি নেতাসহ সরকারের সমালোচকরা করোনা শুরুর প্রথম থেকে বলে আসছে বাংলাদেশে কোটি কোটি মানুষ আাক্রান্ত হবে আর লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাবে’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘তারা আরও বলেছিলেন সরকার করোনা প্রতিষেধক টিকা আনতেই পারবে না। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে। টিকা উৎপন্ন হওয়ার আগেই টিকা ক্রয় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই টিকা বাংলাদেশে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা দেয়া অব্যাহত রয়েছে।’

যারা বলেছিলেন টিকা আনতে পারবে না সেই বিএনপি নেতারা এবং সামলোচকরা গোপনে টিকা গ্রহন করছেন উল্লেখ করে তিনি বিএনপি নেতা এবং ঐসব সমালোচকদের গোপনে টিকা গ্রহণ না করে প্রকাশ্যে টিকা নেয়ার আহ্বান জানান। এ ব্যপারে জনগণকে বিভ্রান্ত না করতেও তাদের প্রতি আহবান জানান হাছান।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি বলেছিলেন করোনা পরিস্থিতিতে দেশে হাজার হাজার মানুষ অনাহারে মারা যাবে। কিন্তু সরকারের যথযথ পদক্ষেপের কারণে গত এক বছরে একজন মানুষও অনাহারে মারা যায় নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে ছিল। যার ফলে, সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, অনেকে মৃত্যুবরন করেছেন। ’

তথ্যমন্ত্রী নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন জানিয়ে বলেন, ‘অথচ যারা রাজপথে সরকারের সমালোচানয় মুখর ছিলেন, দেশের মানুষের পাশে তারা ছিলেন না। করোনা পরিস্থিতিতে যখন শ্রমিক সংকটে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসল ঘরে তুলতে পারছিলেন না তখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছে। দেশে এই ধরনের নজির ইতিপূর্বে ছিল না। ’

হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতুত্বকালীন ভাতা, অসহায় গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দিয়ে দেশে নজির সৃষ্টি করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানীভাতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করে এখন ২০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। তিনি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং উন্নয়নের কথা দেশের মানুষের মধ্যে প্রচার করতে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়াও, যারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে দলে ভিড়েছেন তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত না করে ত্যাগী এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে আগামী কমিটি গঠন করতে নেতাকর্মীদের পরামর্শ দেন।

সভাশেষে নৃপেন্দ্র নাথ দত্ত দুলাকে সভাপতি ও আক্কাস আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্য বিশিষ্ঠ আত্রাই উপজেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

You might also like