শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার দ্বিতীয় প্রকল্পের উদ্বোধন হতে পারে আগামী মাসে

১১২

চট্টগ্রাম শহরে ওয়াসার চব্বিশ ঘণ্টা পানি সরবরাহ নিশ্চিত হতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ লক্ষ্য অর্জিত হবে। আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি এ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ আগামীকাল শনিবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করবেন। তাঁরা প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা সরেজমিন দেখবেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে সার্বিক বিষয়ে ধারণা নেবেন। এরপর মন্ত্রী ওয়াসার ‘পতেঙ্গা বুস্টিং পাম্প স্টেশন’ উদ্বোধন করবেন এবং সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় করবেন। এ বুস্টিং পাম্প চালু হলে ইপিজেড-বন্দর-পতেঙ্গাবাসী মদুনাঘাট শেখ রাসেল পানি সরবরাহ প্রকল্পে উৎপাদিত দৈনিক সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানি পাবে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা এলাকায় কর্ণফুলী নদী থেকে পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর চট্টগ্রাম শহরে সরবরাহ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি উৎপাদনে গেলে ওয়াসার পানি সরবরাহ বাড়বে দৈনিক আরো ১৪ দশমিক ৩ কোটি লিটার। বর্তমানে দৈনিক ৩৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ প্রকল্প চালু হলে দৈনিক ৫০ কোটি লিটারের বেশি পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে প্রথম প্রকল্প শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প-১ ও মদুনাঘাট শেখ রাসেল পানি সরবরাহ প্রকল্প চালুর পর এ মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্প-২ প্রতিষ্ঠার ৫৬ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার সবচেয়ে বড় প্রকল্প। জাপানের জাইকা, বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয় ৪ হাজার ৪ শ’ ৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা ৩ হাজার ৬ শ’ ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৮ শ’ ৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করে। নগরীতে বর্তমানে ওয়াসার পানির চাহিদা দৈনিক ৫০ কোটি লিটার। কিন্তু ওয়াসা সরবরাহ করতে পারে প্রায় ৩৬ কোটি লিটার। এ শোধনাগার চালু হলে উৎপাদন বাড়বে আরো ১৪ দশমিক ৩ কোটি লিটার। এতে নগরীর পানি সমস্যা কেটে যাবে বলে আশা করছেন ওয়াসার কর্মকর্তারা।

২০২০ সালের জুনে এটি চালু হওয়ার প্রাথমিক সময় নির্ধারণ করা হলেও করোনার কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়। পরে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিকরা কাজের যোগ দিলে কাজে গতি আসে। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে এ প্রকল্পের ট্রায়াল রান শুরু হয়েছে।

You might also like