সহিংসতা ঠেকাতে কাজাখস্তানে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন জোটের সৈন্যরা

তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে কাজাখস্তানের সবচেয়ে বড় শহরে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেখানে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্যারাট্রুপারসরা।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান শহর আলমাতিতে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৮ জন সদস্যও মারা গেছেন, যার মধ্যে দুই জনের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে। সহিংসতার জেরে আটক হয়েছে দুই হাজারের বেশি মানুষ। টানা কয়েক দিন ধরে সহিংসতা বিরাজ করছে দেশটিতে।

কাজাখ প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ বৃহস্পতিবার সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে, ‘বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের’ নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ থামাতে তিনি সিএসটিও-ভুক্ত (কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশন) দেশগুলোর কাছে সহায়তা চান। এর পরই প্রতিবেশী দেশে সৈন্য পাঠানোর পদক্ষেপ নেয় রাশিয়া। সাবেক সোভিয়েতভুক্ত দেশ রাশিয়া, আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান এবং তাজিকিস্তানের মধ্যকার একটি সামরিক চুক্তি হচ্ছে সিএসটিও।

বুধবার রাতেই সিএসটিও-র চেয়ারম্যান আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশেনিয়ান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে কাজাখস্তানে ‘সীমিত সময়ের জন্য’ শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাজাখস্তানের পরিস্থিতি ‘নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে তারা।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশটিতে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের জেরে কাজাখস্তানে সরকারের পতন ঘটে গত বুধবার ( ৫ জানুয়ারি)। প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ দেশটির প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেন। একই সঙ্গে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

সহিংস আন্দোলনের মধ্যে আলমাতি শহরের রাস্তায় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বহু যানবাহন, আগুন দেওয়া হয়েছে সরকারি ভবনগুলোতে, প্রেসিডেন্টের আবাসিক ভবনের আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় বুলেটের খোসা। ঘটে লুটপাটের ঘটনাও।

সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত থাকে বৃহস্পতিবারও। দেশটির বেশিরভাগ এলাকা পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নেয় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আলমাতির প্রধান চত্ত্বরে আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ব্যাপক ধরপাকড় চলে দিনভর। সহিংসতার জেরে দেশজুড়ে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় ইন্টারনেট সংযোগ। দেশটির স্বাধীনতার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় সহিংসতার ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

You might also like