সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মহেশখালীর এক যুবক খুন

সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে সহপাঠীদের এলোপাতাড়ি মারধরে রুবেল (৩৬) নামে এক জেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত রুবেল মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের অফিস পাড়া গ্রামের মৃত বাদশাহার পুত্র।

ঘটনাটি ধামা-চাপা দিতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় আজ (সোমবার) আছর নামাযের পর তাড়াহুড়া করে  বিকাল ৫ টায় উক্ত জেলেকে দাফন করে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। জানাযার নামাজের পর পর ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে উক্ত ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার জন্য নিহতের পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে উভয়পক্ষ থেকে কাগজে সই নিয়েছেন।

ঘটনা বিবরণে জানা যায় কালারমারছড়া ইউনিয়ের নুনাছড়ির বাসিন্ধা আবুল কালাম প্রকাশ কালাইঙ্গ্যা বহদ্দারের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলারে অফিস পাড়ার বাদ্শাহর পুত্র রুবেল ও ট্রলারের মালিক সহ ১৬ জন জেলে গত ৮ দিন পূর্বে সাগরে মাছ ধরতে যায়। সাগরে মাছ ধরা অবস্থায় মাছ চুরি করে বিক্রি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রলারের মালিক সহ অন্যান্যরা রুবেলকে ব্যাপক মারধর করে। মারধরে রুবেলের মৃত্যু হয় বলে জানায় এক জেলে।

সর্বশেষ উক্ত ট্রলারের মালিক স্থানীয় চেয়ারম্যান তারেকের সাথে যোগাযোগ করে নিহত যুবককে গ্রামের বাড়িতে ১১ মার্চ সকালে নিয়ে আসলে তার শরীরের অবস্থা দেখে এলাকার নারী-পুরুষরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এলাকাবাসী রোষানল থেকে বাঁচতে এরই ফাঁকে ট্রলারের মালিক সহ অন্যান্য জেলেরা পালিয়ে যায়। পরে চেয়ারম্যান নিহতের পরিবার ও ট্রলার মালিকের সাথে যোগাযোগ করে তাড়াহুড়া করে লাশটি ময়না তদন্ত না করে বিকাল ৫ টায় দাফন করে ফেলেন।

নিহতের শরীরের বিভিন্ন মারাত্মক আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে। এমনকি নিহতের শরীরে ছিন্ন-ভিন্ন ভিডিও চিত্র সহ ছবি দেখলে বুঝা যাবে তাকে কিভাবে পিঠিয়ে হত্যা করেছে। ট্রলারের মালিক আবুল কালাম প্রকাশ কালইন্যা থেকে জানতে চাইলে তার মোবাইলটি বার বার কেটে দেয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি। এ দিকে কালারমারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান তারেক শরীফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ডাইরিয়ায় তার মৃত্যু ঘটেছে।

 

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি