সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

৩৫

সাতক্ষীরায় পরকীয়া প্রেমের কারণে সাত মাসের অন্তঃস্বত্বা গৃহবধু পারভীন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর স্ত্রীকে কাঁথা দিয়ে ঢেকে বুধবার সকালে ইটভাটায় কাজে যায় স্বামী আব্দুল খালেক। সাতক্ষীরা সদরের লাবসা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী নিহতের স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

গৃহবধু পারভীন আক্তার (২৪) রাজনগর গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে। স্বামী আব্দুল খালেক হাজিপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে।

নিহতের ভাই রাজনগর জামাইপাড়ার ইটভাটা শ্রমিক তরিকুল ইসলাম জানান, পারভীন আক্তারের সঙ্গে ভাটা শ্রমিক আব্দুল খালেকের আট বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। পারভীন এখন সাত মাসের অন্তঃস্বত্বা ছিল। অভাবের কারণে তিন বছর যাবৎ খালেক পারভীনকে নিয়ে রাজনগর জামাইপাড়ায় নদীর চরভরাটি জমিতে বসবাস শুরু করে।

তিনি জানান, খালেক একই এলাকার এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে স্বামীর সঙ্গে পারভিনের বিরোধ চলছিল। বুধবার ভোররাতের কোন এক সময় পারভীনকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী আব্দুল খালেক। এরপর কাঁথা চাপা দিয়ে ঢেকে বাইরে থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে ভাটপাড়ায় চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের ইটভাটায় কাজ করতে যায়।

রাজনগর জামাইপাড়ার স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে খালেক তার স্ত্রী পারভিনকে মারধর করে। বুধবার সকালে তাদের মেয়ে ফারজানার কান্না শুনে ঘরের তালা ভেঙে পারভীনকে কাঁথা মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পায় প্রতিবেশীরা। পারভীনের গলায় দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করার মত দাগ দেখা গেছে। পরে গ্রামবাসীরা ইটভাটা থেকে স্বামী আব্দুল খালেককে ধরে এনে পুলিশে দেয়।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া খবরের পর বেলা ১২টার দিকে পারভীন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত গৃহবধুর স্বামী আব্দুল খালেককে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।

নিউজ ডেস্ক/বিজয় টিভি

You might also like