সিরাজগঞ্জে ৩০ কোটি টাকায় নির্মাণ মসজিদের উদ্বোধন

৩০৪

দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী দ্বারা ৩০ কোটি টাকায় নির্মাণ সিরাজগঞ্জ-এনায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের অবস্থিত বাহেলা খাতুন জামে-মসজিদের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ এপ্রিল) জুমার নামাজের মধ্যদিয়ে জেলার বেলকুচি উপজেলার পৌর ভবনের দক্ষিনে নির্মিত আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে-মসজিদের উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করা হয়।

পরে জুমার নামাজ শুরু হওয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের সংসদ্য সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মোমিন মন্ডল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, জনপ্রতিনিধি ও দেশ বরেণ্য আলেম ও হাজার হাজার মসুল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে বেলকুচি পৌরসভার মুকন্দগাঁতী মহল্লায় আড়াই বিঘা জমির ওপর নির্মিত হয়েছে আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ। মসজিদটির দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী দ্বারা দৃষ্টি কেড়েছে মুসুল্লিদের। অনেকেই ধারনা করছেন নির্মাণশৈলীর দিক থেকে দেশের অন্যতম সেরা মসজিদ হয়েছে এটি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মুকুন্দগাঁতী এলাকার বাসিন্দা রহমত গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রয়াত শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকারের নির্মিত বাহেলা খাতুন চক্ষু হাসপাতাল এলাকার দুস্থ রোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে সেবা দিয়ে আসছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নিজস্ব অর্থায়নে ছেলে আমানুল্লাহ সরকার ও মা বাহেলা খাতুনের নামে ‘আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদ’ কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। শুরু থেকে প্রতিদিন ৫০ জন শ্রমিক দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করতে সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় লেগেছে।

মসজিদটি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগে ২০২০ সালের ২ আগস্ট মারা যান শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার। এরপর তার ছেলে আমান উল্লাহ সরকার মসজিদটির নির্মাণকাজ শেষ করেন।

সরেজমিনে জানা যায়, নয়নাভিরাম দ্বিতল এই মসজিদটির ওপরে বিশাল আকৃতির একটি গম্বুজের পাশাপাশি ছোট-ছোট আরও আটটি গম্বুজ রয়েছে। মসজিদটির দু’পাশে রয়েছে ১১ তলা সমতুল্য (১১০ ফিট) উচ্চতার মিনার। মসজিদের ভেতরে মার্বেল পাথর ও গ্রানাইড পাথর দ্বারা মোড়ানো দৃষ্টিনন্দন সূক্ষ্ম কারুকাজ নজর কেড়ে নেয় মুসল্লিদের। মসজিদের চারপাশে সাদা রঙের পিলার, সুউচ্চ জানালা, সাদাটে রঙের টাইলস। চত্বরে পরিকল্পিতভাবে লাগানো সবুজ ঘাস। সবকিছুই যেন অনন্য সৌন্দর্য্য ছড়িয়ে দিয়েছে। রাত এলেই আলোর ঝলকানিতে অপরূপ রূপে শোভিত হয় মসজিদটি। চতুর দিকে রং-বেরঙের আলোকসজ্জা দূরের দর্শনার্থীকেও আকৃষ্ট করে। মসজিদের ভেতেরও রয়েছে একাধিক ঝাঁড়বাতির আলো। বেশ দূর থেকেই মসজিদের গম্বুজ ও নির্মাণাধীন মিনার দু’টি নজর কাড়ে। রাতের বেলা এক অন্যরকম সুন্দয্যের সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে বেশ শান্ত পরিবেশ।

উদ্বোধন হওয়ার আগেই প্রতিদিন সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ এ মসজিদটি দেখতে ভিড় করেছেন।

মসজিদটি দেখা শোনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মো: ওয়াদুদ হোসেন বলেন, এই মসজিদের পাশেই ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের থাকার জন্য কোয়াটার নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে পাঠাগার ও শৌচাগার। সেই সঙ্গে মসজিদের প্রবেশ পথের দুই সিঁড়ির পাশে কাঁচে ঘেরা অটো ফিল্টার করা পানি দিয়ে ওজুর ব্যবস্থা আছে।

মসজিদের খাদেম আব্দুল মান্নান বলেন, এই মসজিদে ছাই রংয়ের বিশাল আকৃতির মনোরম একটি গম্বুজ রয়েছে। মেঝেতে বসানো আছে সাদা রঙের টাইলস, পিলারগুলো ইতালি ও ইন্ডিয়া থেকে আনা মার্বেল পাথর জড়ানো। তৃতীয় তলায় গম্বুজের সঙ্গে চায়না থেকে আনা একটি ঝাড়বাতি আছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি জায়গায় ঝাড়বাতি লাগানো হয়েছে। মসজিদ চত্বরে আছে পরিকল্পিতভাবে লাগানো ঘাস। মসজিদটিতে প্রায় পাঁচ হাজার মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাজেদুল বলেন, আল-আমান বাহেলা খাতুন জামে মসজিদটি প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এর নির্মাণশৈলী দেখে হাজার হাজার মানুষ এখানে ভিড় করছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়েছে।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিছুর রহমান বলেন, প্রথম দেখাতেই যে কারও দৃষ্টি কারে মসজিদটি। দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে এই মসজিদের নির্মাণশৈলী বেশ আকর্ষণীয়। ব্যস্ত সড়কে যাতায়াতকারী যে কেউ প্রথম দেখাতেই থমকে দাঁড়ান। জেলা পৌরসভা সদরে হওয়ায় ইতোমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্স ঘিরে পর্যটকদের আনা-গোনা বেড়েছে।