স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

১৩২

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ। ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন স্বৈরশাসক এরশাদ। জাফর-জয়নাল-দিপালী-নুর-মিলনসহ বহু মানুষের আত্মত্যাগে দ্বিতীয়দফা গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে দেশ।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট। জাতির পিতার হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশে শুরু হয় সামিরক শাসন। সামরিক শাসক জিয়ার ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইনে ক্ষমতা দখল করেন হুসেইন মো. এরশাদ।

৮৩র মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। ক্ষমতা ধরে রাখতে স্বৈরাচার এরশাদও শুরু করে দমন পীড়ণ। ছাত্রদের রক্তে রাজপথ হয় রক্তাক্ত।

ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোও মাঠে নামে। নতুন গতি পায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।

১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে বুকে পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় যুবলীগ কর্মী নুর হুসেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন রুপ নেয় গণ আন্দোলণে।

আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট-বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোটসহ সব দল গণতন্ত্র মুক্তি সংগ্রামে কাঁপিয়ে তুলে রাজপথ।

ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর এরশাদের লেলিয়ে দেয়া বাহিনীর গুলিতে বিএমএ নেতা ডা. শামসুল আলম মিলন নিহত হলে জারি করে জরুরী আইন। অমান্য করে রাজপথে সব শ্রেণীর মানুষ।

টানা আন্দোলনে নড়বড়ে হয়ে পড়ে এরশাদের মসনদ। ৪ ঠা ডিসেম্বর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, দুদিন পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে বিদায় নেন এরশাদ। শেষ হয় তার নয় বছরের সামরিক শাসনের।

ডেস্ক নিউজ/বিজয় টিভি