হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার চার্জশিট ভুক্ত আসামী গ্রেফতার

রবিবার রাতে গাজিপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী এবং হলিআর্টিজান হামলায় চার্জশিট ভুক্ত আসামী নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির অন্যতম সূরা সদস্যমোঃ মামুনুর রশিদ ওরফে রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে গ্রেফতার করা হয় ।

সকালে (রবিবার) র‌্যাব মিড়িয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন গ্রেফতারকৃত রেজা হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী এবং হলিআর্টিজান হামলায় চার্জশিট ভুক্ত আসামী। এসময় তার কাছ থেকে নাশকতার কাজে ব্যবহৃত নগদ ১,৫০,০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতকে জিঙ্গাসাবাদে জানা যায়, তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় তার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত অবস্থান করে পরবর্তীতে তার পিতা তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়। ঢাকার মিরপুর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও নওগাঁর বিভিন্ন মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করে সে। সর্বশেষ সে ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদরাসাতুল দারুল হাদিস হতে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করে। এরপর বগুড়ার সাইবারটেক নামক একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হতে অফিস এপ্লিকেশন কোর্স সম্পন্ন করে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করে। গ্রেফতারকৃত জঙ্গীরা মামুনুর রশিদের অন্তভুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানায় সে ২০১৩ সালে ডাক্তার নজরুল কর্তৃক জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। এভাবে সে ধীরে ধীরে সে জেএমবির প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠে।

প্রাথমিকভাবে রিপন এর দায়িত্ব ছিল চাঁদা সংগ্রহ করে ডাক্তার নজরুলের নিকট পৌঁছে দেয়া। ডাক্তার নজরুল উক্ত সময়ের জেএমবির একাংশের আমির ছিল। অল্প সময়ের মধ্যে ডাক্তার নজরুল সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে সে আত্মপ্রকাশ করে।

নবনিযুক্ত জেএমবির আমির হিসেবে সারোয়ার জাহান সংগঠনের জন্য নতুন করে অর্থ সংগ্রহ ও দাওয়াতি কার্যক্রম বেগবান করার উদ্যোগ হাতে নেয়। এরই অংশ হিসেবে মামুন-অর-রশিদ দায়িত্বাধীন এলাকায় বিকাশের দোকান লুট করে ৬ লাখ টাকা , সিগারেট বিক্রেতা হতে ছিনতাই করে ১ লাখ টাকা, গাইবান্ধার অপর এক ঘটনা ১ লক্ষটাকা সহ মোট ৮ লক্ষ টাকা ছিনতাই কৃত অর্থ জেএমবির আমির সারওয়ার জাহান এর নিকট পৌঁছে দেয়।

২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে তামীম চৌধুরী ও সারওয়ার জাহান এর গোপন বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে স্মারক পত্র প্রস্তত করা হয়। উক্ত সমঝোতার ভিত্তিতে সারওয়ার জাহান কে আমির নির্বাচিত করা হয় এবং সাংগঠনিক নাম দেওয়া হয় শায়্যখ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। উক্ত বৈঠকে গ্রেফতারকৃত মামুনুর রশিদ সহ আরোও কয়েকজন উপস্থিত ছিল। তখন মামুনুর রশিদ সূরা সদস্য মনোনীত হয়।

জেএমবির সূরা সদস্য হিসেবে মামুনুর রশিদ দায়িত্ব ছিল অর্থ সংগ্রহ করা সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং অর্থ ও বিস্ফোরক সরবরাহ করা।

 

নিউজ ডেস্ক / বিজয় টিভি