আজকের দিনেই পৃথিবীতে এসেছিলেন জেমস

দর্শক শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কিংবদন্তি শিল্পী নগরবাউল জেমস। তার নাম শুনলেই ভক্তের উন্মাদনা বেড়ে যায়। গুরু হিসেবে খ্যাত এই গায়কের গান মানেই শ্রোতাদের সীমাহীন উচ্ছ্বাস। আর তিনি যখন কনসার্টে গিটার হাতে গাইতে শুরু করেন, তখন সামনে থাকা হাজারও ভক্তের হৃদয়ে ঝড় ওঠে।

১৯৬৪ সালের আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন এই খ্যাতিমান গায়ক। নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করলেও, পরবর্তীতে তার বেড়ে ওঠা নৈসর্গিক সৌন্দয্যের রানীখ্যাত চট্টগ্রাম শহরে। মূলত সেখানে থেকেই তার সংগীতের ক্যারিয়ার শুরু।

জেমসের জীবন বেশ বাঁক বদলের, অনেক গল্পের। তার বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি পরবর্তীতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কিন্ত সংগীত জেমসের স্বপ্ন হলেও তার পরিবার তা পছন্দ করত না। আর গানের জন্য বাবার সঙ্গে অভিমান করে ঘর ছাড়েন কিশোর বয়সে। পরে চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিং-এ থাকতে শুরু করেন তিনি।

১৯৮০ সালে জেমস প্রতিষ্ঠা করেন ‘ফিলিংস’ নামক একটি ব্যান্ড। তিনি নিজেই ওই ব্যান্ডের প্রধান গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘ষ্টেশন রোড’ প্রকাশ পায়। যদিও অ্যালবামটি সে সময়ের শ্রোতাদের গান শোনার রুচির সাথে একটু ভিন্ন মেজাজের হওয়ায় জনপ্রিয়তা পায়নি।

তবে ১৯৮৮ সালে ‘অনন্যা’ নামের অ্যালবাম রিলিজ করে সুপারহিট হয়ে যান জেমস। এরপর ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’, ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অফ ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো তাকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায়।

এছাড়াও জেমসের অন্যান্য অ্যালবামগুলো হল নগর বাউল থেকে ‘দুষ্টু ছেলের দল’, ‘বিজলি’। একক অ্যালবাম ‘অনন্যা’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করোনা’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’, ‘কাল যমুনা’ ।

অন্যদিকে জেমস চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেও সফল হয়েছেন। তার বেশ কিছু গান চলচ্চিত্রে সুপারহিট হয়ে আছে। ‘দেশা দ্য লিডার’, ‘সত্তা’ ছবির জন্য গান করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।

বর্তমানে জেমসের জনপ্রিয়তা শুধু দেশে নয়, আর্ন্তজাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক জনপ্রিয় নগরবাউল ব্যান্ডের এই তারকা। পাশের দেশ কলকাতাতেও সেই নব্বই দশক থেকে একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে, গান করেছে তাকে অনুসরণ করে।

বাংলা গানের পাশাপাশি হিন্দি গানে কণ্ঠ দিয়েও জয় করেছেন লক্ষ ভক্ত শ্রোতার হৃদয়। বলিউডে তার গাওয়া ‘ভিগি ভিগি’, ‘চল চলে’ এবং ‘আলবিদা’, ‘রিস্তে’, ‘বেবাসি’ গানগুলো উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে নিরবে নিভৃতেই কাটে তার দিন। নিজের মতো করে থাকেন, গান করেন। নিজেকে তৈরি করেন দেশ-বিদেশে স্টেজ শোগুলোর জন্য।