আঞ্চলিক সংকট মোকাবেলায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

২৬

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পটভূমিতে আঞ্চলিক সংকট মোকাবেলায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে পাঁচটি প্রস্তাব রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় যৌথ পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) ৭৮ তম অধিবেশনে সম্প্রচারিত একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি যে পাঁচটি পদক্ষেপের প্রস্তাব করতে চাই, যে গুলো ‘এসক্যাপ’ বিবেচনা করতে পারে এবং অবিলম্বে পরিস্থিতি মোকাবেলায় যৌথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’

২৩ থেকে ২৭ মে ব্যাংককের জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে এবং ‘এসক্যাপ’-এর ৭৫তম বার্ষিকীতে অনলাইনে এই অধিবেশনটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরামর্শের ব্যখ্যায় আঞ্চলিক সংকট ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা উন্নত করতে আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আরও বাস্তবসম্মত উপায়ে স্নাতক দেশ গুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার অনুরোধ জানান।

শেখ হাসিনার প্রস্তাব গুলোতে, তিনি জ্ঞান এবং উদ্ভাবনের জন্য সহযোগিতার সুবিধার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশ গুলোতে পর্যাপ্ত তহবিল এবং প্রযুক্তি বরাদ্দের জন্য সদস্য রাষ্ট্র গুলোকে একত্রিত হয়ে সহায়তা করার ও পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী আরেকটি প্রস্তাবে ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তথ্যপ্রযুক্তি বৃদ্ধির জন্য আইসিটি’র প্রসারের কথা বলেন যা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় পরিষেবা গুলোকে সক্ষম করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন রুশ-ইউক্রেনীয় সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশ গুলো যুদ্ধে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অধিবেশনের থিম, ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন অগ্রসর করার জন্য একটি সাধারণ এজেন্ডা,’ একটি টেকসই বিশ্বের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা, অংশীদারিত্ব এবং সংহতি জোরদার করতে সঠিকভাবে পদক্ষেপ বেছে নেয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশকে ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে স্নাতক হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি আমাদের পরিকল্পিত উন্নয়ন যাত্রার বৈশ্বিক স্বীকৃতি যা, আমরা গত তেরো বছর ধরে অনুসরণ করছি।’(বাসস)