আড়ম্বরহীন ও প্রতীকী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন

৩০

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির তীব্রতার কারণে চলতি বছরের পহেলা বৈশাখ আড়ম্বরহীন ও প্রতীকীভাবে উদযাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন কর্মর্সূচি আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাভাষাভাষী সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের প্রাণের বাংলা বর্ষবরণ পহেলা বৈশাখ কে আবেগকে রুদ্ধ করে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। রমনার বটমূলসহ আয়োজন নেই সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর। সারা দেশে বাংলা বর্ষবরণকে উপলক্ষে করে বৈশাখী বাণিজ্য করা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বিপনীবিতানগুলোয় ছিল না ভিড়।

গতবছর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ভায়ালি পহেলা বৈশাখকে উদযাপন করলেও এবার তাও করা হচ্ছে না। শিল্পকলা একাডেমিতে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা থাকলেও এ দিনটিকে কেন্দ্র করে যারা মূল কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকেন তাদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় সেখানে কোন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি। অন্যদিকে, ছায়ানটের শিল্পীবৃন্দ রমনার বটমূলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে থাকে। করোনা ভাইরাসের দুর্যোগের কারণে এবার কোন আয়োজন করা থেকে বিরত থাকছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ টেলিভিশনও (বিটিভি) ছায়ানটের আর্কাইভ থেকে বাংলা বর্ষবরণের গান ও ফুটেজ নিয়ে সকাল আটটায় বর্ষবরণ নিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছে।

অন্যদিকে, কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং লকডাউন বিবেচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ-১৪২৮ সীমিত পরিসরে প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক নিয়ে অনুষদ প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সংক্ষিপ্তভাবে প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন করা হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রতীকী এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন।

এই প্রতীকী মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়াসহ চারুকলা অনুষদের স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন।

You might also like